প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩০:০১ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নারীদের জন্য সংরক্ষণ কার্যকর করা নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আইনসভায় নারীদের সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি এবং এর মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র আরও প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, একবিংশ শতাব্দীর উন্নয়নের পথে ভারত এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্তের দিকে এগোচ্ছে। খুব শীঘ্রই এমন এক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। এই পদক্ষেপ সমতা, অন্তর্ভুক্তি এবং জনঅংশগ্রহণের প্রতি আমাদের জাতীয় অঙ্গীকারকে নতুনভাবে তুলে ধরবে। দেশের সংসদের ওপর এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সিদ্ধান্ত নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে নতুন শক্তি দেবে এবং লোকসভা ও রাজ্যের বিধানসভাগুলিতে তাদের যথাযথ স্থান নিশ্চিত করবে। তিনি এটিকে শুধু একটি আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া হিসেবে না দেখে, দেশের কোটি কোটি নারীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
এই সময়ে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজও তৈরি হয়েছে। অসমে রঙালি বিহু, ওডিশায় মহাবিষুব সংক্রান্তি, পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ, কেরলে বিষু, তামিলনাড়ুতে পুথান্ডু এবং পাঞ্জাবসহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বৈশাখী উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। এই সব উৎসব মানুষের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং সকলকে শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, ১১ এপ্রিল থেকে মহাত্মা জ্যোতিরাও ফুলের ২০০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন শুরু হবে এবং ১৪ এপ্রিল ড. ভীমরাও আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তী পালিত হবে। এই দিনগুলি আমাদের সামাজিক ন্যায় ও মানবিক মর্যাদার মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই প্রেক্ষাপটে ১৬ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে নারীদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী, এবং তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখছেন—বিজ্ঞান, উদ্যোগ, ক্রীড়া, সশস্ত্র বাহিনী ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, গত এক দশকে নারী শক্তিকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও মৌলিক সুবিধার উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বেড়েছে। তবে এখনও রাজনীতি ও আইনসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব যথেষ্ট নয়, যা দ্রুত ঠিক করা জরুরি।
তার মতে, প্রশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে শাসন ব্যবস্থার মান উন্নত হয় এবং গণতন্ত্র আরও সংবেদনশীল, সুষম ও দায়িত্বশীল হয়ে

No comments:
Post a Comment