উত্তর ২৪ পরগনা: 'চরিত্রহীন সুব্রত ঠাকুর', এমনই পোস্টারে ছয়লাপ চারদিক। রাত পোহালেই দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাইঘাটা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সুব্রত ঠাকুরের বিরুদ্ধেই এমন পোস্টার ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল এই পোস্টার, খোঁচা তৃণমূলের। পাল্টা শাসক দলের কারসাজির নালিশ বিজেপির।
এদিন সকাল হতেই গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের গোবরডাঙ্গা, সুটিয়া, পাঁচপোতা, জামদানি এলাকায় সুব্রত ঠাকুরের বিরুদ্ধে পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারে লেখা, 'চরিত্রহীন সুব্রত ঠাকুর। গত পাঁচ বছর নিখোঁজ ছিল। মতুয়াদের উপাস্য হয়ে সে কীভাবে ভোটের জন্য সাধারণ মানুষের হাত পা ধরছে। এটা মতুয়াদের কাছে লজ্জার।'
যদিও কে বা কারা এই পোস্টার দিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে, তৃণমূলের দাবী, বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ এই পোস্টার। গোবরডাঙ্গা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মনোজ কান্তি বিশ্বাস বলেন, "এটা বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। বিগত দিনে আমরা দেখেছিলাম তাঁদের নেত্রীর বিরূপ মন্তব্য। ওই নেত্রীর সঙ্গে হয়তো বিজেপির বোঝাপড়া হয়ে গেছে। কিন্তু আর যেসব কর্মী সমর্থকরা আছে তারাও তো এখনও বিক্ষুব্ধ। তৃণমূল কংগ্রেস এইসব করে না।"
অন্যদিকে এই বিষয়ে বিজেপি নেতা কাজল সেন বলেন, 'বিজেপির মধ্যে কোন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। এটা তৃণমূলের চক্রান্ত। এতে কোনও লাভ হবে না।'
উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগে গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুব্রত ঠাকুরের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দলেরই এক নেত্রী। এমনকি ঠাকুরবাড়ি মুক্ত গাইঘাটা নিয়েও সরব হয়েছিলেন বনগাঁ জেলার ওই নেত্রী তনিমা সেন। পরে অবশ্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে তনিমার সঙ্গে সুব্রত ঠাকুরের একসাথে বৈঠক করে ক্ষতে প্রলেপ দেয় পদ্ম শিবির। তাতেও যেন শান্তি নেই বিজেপি প্রার্থীর। ভোটের আগে সকালেই এই ধরণের পোস্টার ঘিরে সমস্যা যে বাড়ল, সেটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

No comments:
Post a Comment