ফলতা: দ্বিতীয় দফার ভোটের একদিন আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে চরম উত্তেজনা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে রুট মার্চে নামেন পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা। কিন্তু সেই রুট মার্চ ঘিরেই শুরু হয় বিক্ষোভ, যাতে করে মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। উল্লেখ্য, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জন্য নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক আইপিএস আধিকারিক অজয় পাল শর্মা উত্তরপ্রদেশের সিংঘাম তথা এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট নামে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রুট মার্চ চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান তাঁর দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষকের কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। জয় বাংলা স্লোগানও দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ তোলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ফলতা বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় রুট মার্চে বেরোন উত্তরপ্রদেশের 'এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট' আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা। খানপাড়া এলাকায় তৃণমূল কার্যালয়ের পাশের একটি পাড়ায় তল্লাশি ও খোঁজখবর সেরে যখন তাঁর কনভয় ফিরছিল, তখনই বাধে বিপত্তি। অভিযোগ, জাহাঙ্গীর খানের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তৃণমূল প্রার্থীর নেতৃত্বে পর্যবেক্ষকের গাড়ি লক্ষ্য করে 'গো ব্যাক' ও 'জয় বাংলা' স্লোগান দেওয়া হয়।স্লোগানের দাপটে পর্যবেক্ষকের কনভয়ের পেছনের কয়েকটি গাড়ি কিছুক্ষণের জন্য থমকেও যায়।
জাহাঙ্গীর খানের অভিযোগ, পুলিশ অবজারভার বিজেপির প্রভাবে কাজ করছেন এবং পরিকল্পিতভাবে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এভাবে ভয় দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করা যাবে না। ফলতার মানুষ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই এর জবাব দেবেন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই রুট মার্চ করা হচ্ছে। ভোটের আগে যেকোনও ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সোমবার জাহাঙ্গিরের বাড়িতে হানা দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অজয় পাল। যার জবাবে জাহাঙ্গীর নিজেকে 'পুষ্পা' ও পুলিশ অফিসারকে 'সিংঘাম' বলে কটাক্ষ করেন।
এদিকে মঙ্গলবার, এই ঘটনার জেরে ফলতা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভোটের আগের দিনই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। বাজার এলাকা থেকে গ্রামাঞ্চল—সব জায়গাতেই চাপা উত্তেজনার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরণের ঘটনাপ্রবাহ নির্বাচনী পরিবেশকে আরও স্পর্শকাতর করে তোলে। তবে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র এখন কার্যত টানটান উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে ভোটের প্রহর গুনছে। আগামীকালের ভোটে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

No comments:
Post a Comment