দুর্ঘটনায় দাদু-নাতির মৃত্যু! রামপুরহাট মেডিকেলে ধুন্ধুমার - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, April 30, 2026

দুর্ঘটনায় দাদু-নাতির মৃত্যু! রামপুরহাট মেডিকেলে ধুন্ধুমার


বীরভূম: পথ দুর্ঘটনায় দাদু-নাতির মৃত্যু। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে বিক্ষোভ, সাময়িকভাবে ব্যাহত হাসপাতালের পরিষেবা। বৃহস্পতিবার রামপুরহাট মেডিকেলে ধুন্ধুমার কাণ্ড। 


বীরভূমের রামপুরহাটে পথ দুর্ঘটনায় দাদু ও নাতির মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। মৃতদের পরিজনেরা চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ডাক্তার ও নার্সদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে, যার জেরে কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয় হাসপাতালের পরিষেবা।


পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বীরভূমের ভর্তা মোড় এলাকায় একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ৪৫ বছর বয়সী কাদের শেখ, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের ৭ বছরের নাতি তামিম শেখকে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। ভর্তা মোড় থেকে মূল রাস্তায় ওঠার সময় একটি চায়না ভ্যান-এর সঙ্গে তাঁদের বাইকের মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। সেই ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কাদের শেখের। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে দ্রুত রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। 


পরিবারের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে কোনও সিনিয়র চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং দীর্ঘ সময় শিশুটিকে নার্সদের ভরসায় ফেলে রাখা হয়েছিল। তাঁদের দাবী, সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না হওয়াতেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই হাসপাতালের ভিতরে উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ।


অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে কর্তব্যরত নার্সরা জানিয়েছেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পরপরই প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত সিনিয়র চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়, তবে চিকিৎসক পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবী, পরিকাঠামোর মধ্যে থেকেই যথাসাধ্য চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়েছিল।


কিন্তু এরই মধ্যে উত্তেজিত জনতা হাসপাতালের কর্মীদের ঘিরে ধরলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে ধীরে-ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এদিকে, দুটো মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad