লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২৩ এপ্রিল ২০২৬: গ্রীষ্মকালে আখের রস মনে-প্রাণে স্বস্তি দেয়। অনেকেই এটি পান করতে ভালোবাসেন। কিন্তু কিছু প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়। যেন- সবারই কি এটি পান করা উচিৎ? এতে কি কোনও ক্ষতি হতে পারে? কাদের আখের রস এড়িয়ে চলা উচিৎ এবং এটি কী কী সম্ভাব্য ক্ষতি করতে পারে? তাহলে চলুন একজন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে এ বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক। দিল্লীর জিটিবি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডা. অজিত কুমার সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, আখের রস শরীরকে সতেজ করে এবং এর ফাইবার উপাদানও উপকারী। তবে, কিছু মানুষের আখের রস পান করা এড়িয়ে চলা উচিৎ।
ডঃ অজিত বলেন, ডায়াবেটিস এবং রক্তে উচ্চ মাত্রায় শর্করার রয়েছে এমন ব্যক্তিদের আখের রস পান করা এড়িয়ে চলা উচিৎ। এর কারণ হল, এই রসে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়িয়ে দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীরা আখের রস পান করলে, তাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অতিরিক্ত ওজন আছে, এমন মানুষদেরও আখের রস পান এড়িয়ে চলা উচিৎ। এর কারণ হল, আখের রসে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি থাকে এবং এটি দ্রুত শরীরে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই দুটি বিষয়ই অতিরিক্ত ওজনের মানুষদের জন্য ভালো নয়। তাই, ডাক্তাররা স্থূলকায় ব্যক্তিদের আখের রস পান না করার পরামর্শ দেন, যদিও এর মানে এই নয় যে তারা এটি একেবারেই পান করবেন না। যদি আপনার শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং আপনি স্থূলতার জন্য কোনও ওষুধ না খেয়ে থাকেন, তবে আপনি সপ্তাহে একবার এক গ্লাস আখের রস পান করতে পারেন। তবে এর আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিন।
যাঁরা ঘন ঘন বদহজম, পেটে ব্যথা বা অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদেরও আখের রস পান করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। কারণ এটি পেটের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এছাড়াও, যাঁরা আখের রস পান করেন, তাঁদের খেয়াল রাখতে হবে যেন তা বেশি পরিমাণে না পান করা হয় এবং খালি পেটে পান করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ।

No comments:
Post a Comment