নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর, ০৪ এপ্রিল ২০২৬: ভোটের আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল কেশপুর। পতাকা বাঁধাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের ১১ নম্বর অঞ্চলের কলাগ্রাম এলাকায়। সংঘর্ষে আহত তিন বিজেপি কর্মী। এমনকি এক বিজেপি কর্মীর কানও কাটা গিয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, তাঁরা যখন তাঁদের দলীয় পতাকা লাগাচ্ছিলেন, তখন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সেই পতাকা খুলে ফেলে দেয়। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা থেকে শুরু হয়ে যায় হাতাহাতি। সেটা মুহূর্তেই সংঘর্ষের রূপ নেয়। বিজেপির অভিযোগ, লাঠি, রড দিয়ে তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তাঁদের তিনজন কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের একজন অনুপ দোলুইয়ের কান কেটে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ বিজেপি। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
ঘটনা ঘটার সময় উপস্থিত ছিলেন কেশপুরের বিজেপি নেতা তথা ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি তন্ময় ঘোষ। তিনি বলেন, "আমরা পাঁচজন মিলে পতাকা বাঁধতে গিয়েছিলাম এলাকায়। হঠাৎ করেই ১০ থেকে ১২ জন তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা এসে লাঠি, রড দিয়ে এলোপথারি মারধর শুরু করে। তৃণমূল চাইছে এলাকায় তৃণমূল ছাড়া আর কেউ থাকবে না। গণতন্ত্রকে ধুলিস্যাৎ করতে চাইছে তারা। চাইছে তৃণমূল ছাড়া কেশপুরে কোনও বিরোধী দল থাকবেনা। আমরা চাইছি যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়, সেই সমস্ত দুষ্কৃতকারীদের যেন শাস্তি হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'ওরা চাইছে লোকসভা ভোটে যেমন একতরফা সন্ত্রাস করে ছাপ্পা মেরে ভোট করেছিল, এবারও সেভাবে ভোট করবে। প্রার্থী নিজেও উস্কানিমূলক কথা বলছেন।' তাঁর বক্তব্য, ৪ তারিখের পর তন্ময় ঘোষকে দেখে নেবে বলে তৃণমূল প্রার্থী শিউলি ঘোষ হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে কেশপুরে কলাগ্রাম এলাকায়। ওই এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশ টহল। রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবে এই ঘটনার সম্পর্কে রাত পর্যন্ত কোনও তৃণমূল নেতার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

No comments:
Post a Comment