নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: রাজ্যে ভোট উৎসব। এই সময় রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যস্ততা চরমে। কোমর বেঁধে প্রচারে নেমেছেন শাসক-বিরোধী প্রার্থীরা। আর এবারে প্রার্থীদের প্রচারে দেখা যাচ্ছে বিরল সব দৃশ্য; কেউ ভোটারের দাড়ি কামিয়ে দিচ্ছেন, কেউ আবার ভোট প্রচারে গিয়ে হাতে খুন্তি তুলে নিচ্ছেন, এমনকি রান্না করে খাইয়ে ঘর মুছে দিতেও দেখা গেছে কাউকে। সমাজমাধ্যমে তো এইসব নিয়ে হাসি বন্যা। এবারে প্রচারে বেরিয়ে খড় কাটতে দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে। খড় কাটলেন চন্দ্রকোনা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলই।
চন্দ্রকোনায় সকাল-সকাল প্রচারে বেরিয়ে পড়েন তৃণমূল প্রার্থী। চরম ব্যস্ততা তাঁর। জনসংযোগ সারছেন জোরকদমে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে চন্দ্রকোনা বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারের গতি ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকাল থেকেই জনসংযোগে নেমে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলই। দিনের শুরুতেই তিনি ভগবন্তপুর ২ নম্বর অঞ্চলের চাষীবাড়, সাউবেরিয়া, পারুলিয়া সহ একাধিক গ্রামে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার খোঁজখবর নেন।
এদিন প্রচারের সময় প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন দলের স্থানীয় নেতৃত্ব ভগবন্তপুর দুই অঞ্চল সভাপতি আরমান আলি খান, ভবন্তপুর দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আশরাফুল মল্লিক-সহ অন্যান্য কর্মী-সমর্থকরা। সকাল সকাল শান্ত পরিবেশে প্রার্থীর এই সরাসরি জনসংযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিশেষ সাড়া ফেলে। গ্রামের প্রবীণ থেকে যুবক, মহিলা—সবাই প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে নিজেদের দৈনন্দিন সমস্যা ও এলাকার উন্নয়নের দাবী-দাওয়া তুলে ধরেন।
সেইসঙ্গে এদিনের প্রচারে এক ব্যতিক্রমী ছবি ক্যামেরাবন্দি হয়। জনসংযোগ করতে এক কৃষক পরিবারের বাড়িতে গিয়ে গরুর জন্য খড় কাটতে দেখা যায় প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলইকে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে প্রার্থীকে এমনভাবে কাজ করতে দেখে অনেকেই অবাক হন, সেইসঙ্গে প্রশংসাও করেন।
এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সূর্যকান্ত দোলই বলেন, “আমি গ্রামবাংলার ছেলে। ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজ ও গবাদি পশুর দেখাশোনার সঙ্গে পরিচিত। আমার নিজের বাড়িতেও দুটি গাভী আছে, আমি নিজেই তাদের পরিচর্যা করি। তাই এই কাজ আমার কাছে নতুন কিছু নয়।” তিনি আরও বলেন, “মানুষের পাশে থাকা এবং তাঁদের জীবনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখা আমার দায়িত্ব। শুধু ভোটের সময় নয়, সবসময়ই আমি মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
প্রার্থীর এই সহজ-সরল আচরণ এবং গ্রামবাংলার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। নির্বাচনের আগে এমন মানবিক ও বাস্তবভিত্তিক প্রচারকৌশল যে ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে এলাকায়।
এদিনের প্রচারে মূলত স্থানীয় উন্নয়ন, কৃষকদের সমস্যা, রাস্তা-যোগাযোগ এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়গুলি তুলে ধরেন প্রার্থী। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথাও তিনি সাধারণ মানুষকে জানান।সব মিলিয়ে, সকালে এই জনসংযোগ কর্মসূচি শুধু রাজনৈতিক প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের যোগাযোগ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

No comments:
Post a Comment