সম্প্রীতির নজির! হরিনাম সংকীর্তনের ভোগ রান্নায় শামিল তৃণমূল প্রার্থী কাশেম সিদ্দিকী - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, April 18, 2026

সম্প্রীতির নজির! হরিনাম সংকীর্তনের ভোগ রান্নায় শামিল তৃণমূল প্রার্থী কাশেম সিদ্দিকী


উত্তর ২৪ পরগনা: হরিনাম সংকীর্তনের ভোগ রান্নায় শামিল হলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কাশেম সিদ্দিকী। সম্প্রীতির এমনই অনন্য নজির দেখা গেল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দত্তপুকুরে। হরিনাম সংকীর্তনের ভোগ রান্না ও বিতরণের শামিল হলেন আমডাঙার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কাশেম সিদ্দিকী। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ফের একবার মানবিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির গড়লেন কাশেম সিদ্দিকী। 


শনিবার দত্তপুকুর ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত চালতাবেড়িয়া ঘোষপাড়া এলাকায় হরিনাম সংকীর্তন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। আর সেখানে কেবল অতিথি হিসেবে নয় বরং ঘরের ছেলের মত রান্নার কাজে হাত লাগিয়ে সকলকে তাকে লাগিয়ে দিলেন তৃণমূল প্রার্থী। রান্না শেষে উপস্থিত সকলকে প্রসাদ বিতরণ করতেও দেখা যায় কাশেম সিদ্দিকীকে। 


উল্লেখ্য, এই প্রথম নয় এর আগেও নববর্ষের দিন দত্তপুকুর এলাকায় বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হালখাতা করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। মন্দির হোক বা মেলা, উৎসবের আঙিনায় বারবার পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি। 


এই প্রসঙ্গে কাশেম সিদ্দিকী জানান, বাংলার সংস্কৃতি হল মিলেমিশে থাকা। উৎসবের কোনও ধর্ম হয় না। উৎসব সবার। মানুষের সেবার সুযোগ পাওয়াটাই বড় কথা। আজ সবার সঙ্গে মিলে ভোগ রান্না ও বিতরণ করতে পেরে তিনি আনন্দিত। 


এই প্রসঙ্গে দত্তপুকুর ২ নং পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মান্তু সাহা বলেন, "কাশেম সিদ্দিকী পীরজাদা হলেও সবার আগে তাঁর পরিচয় তিনি মানুষ।পশ্চিমবাংলায় আমাদের দিদি এমনভাবেই সংস্কৃতি তৈরি করেছেন। এখানে হিন্দু বা মুসলমান বা কে পীরজাদা বা কে ধর্মীয় গুরু, দিদি সেভাবে আমাদের মানুষ করেননি।" তাঁর কথায়, "যাঁরা দিদির পদপ্রার্থী এবং তৃণমূল কংগ্রেস মন দিয়ে করেন, তাঁদের কাছে মনুষ্যত্ব সবার আগে। তারই নজির আজ দেখা গেল।"


তিনি আরও বলেন, 'কাশেম সিদ্দিকী ফুরফুরা শরীফের মানুষ হলেও প্রতিটা ধর্মের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই তাঁর পথ চলা।' তাঁর মন্তব্য, 'একের উৎসবে অন্যের সহায়তা করা বা প্রতিটি ধর্মকে নিজের ধর্ম মনে করা, সম্মান করা এগুলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিখিয়েছেন ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর।'


পাশাপাশি বিদায়ী বিধায়ক রফিকুর রহমানের প্রশংসাও শোনা যায় উপপ্রধানের গলায়। তিনি বলেন, "রফিকুর রহমান একদিনে তৈরি হয়নি। পরপর তিনবার তিনি বিধায়ক ছিলেন এবং মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। প্রতিটা মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন।"তাঁর দাবী, কাশেম সিদ্দিকী নতুন হলেও আগামী দিনে রফিকুর রহমানের সমান হয়ে উঠবেন।


এদিকে নির্বাচনের লড়াইয়ের মাঝে প্রার্থীর এমন জনসংযোগ আমডাঙার রাজনৈতিক ও সামাজিক আঙিনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কাশেম সিদ্দিকী তাঁর এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমডাঙা জুড়ে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বলিষ্ঠ বার্তা দিতে চাইছেন, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad