"এক রাতেই পুরো ইরান ধ্বংস করে দেব, সেই রাত হতে পারে কালই", বিস্ফোরক ট্রাম্প - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, April 7, 2026

"এক রাতেই পুরো ইরান ধ্বংস করে দেব, সেই রাত হতে পারে কালই", বিস্ফোরক ট্রাম্প



প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪:০২ : মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক বৈঠকে বড় মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এক রাতেই পুরো ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব এবং এমন হামলা যে কোনো সময় হতে পারে। ট্রাম্প আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর বড় আঘাত হানা হবে। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকা ভালো অবস্থানে রয়েছে।



ট্রাম্প জানান, ইরানে আটকে পড়া দুই মার্কিন সেনাকে উদ্ধারের সাফল্য উদযাপন করা হবে। তিনি বলেন, এমন অভিযান সাধারণত দেখা যায় না, কিন্তু দক্ষ দল ও কিছুটা সৌভাগ্যের কারণে এটি সফল হয়েছে। তিনি এটিকে ঐতিহাসিক অভিযান বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, আমেরিকার সেনাবাহিনী কখনোই নিজেদের কাউকে পিছনে ফেলে আসে না। এই অভিযানে বহু মানুষের অবদান ছিল এবং সামান্য সৌভাগ্যও সাহায্য করেছে।



উদ্ধার অভিযানে মোট ১৫৫টি বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে বোমারু বিমান, যুদ্ধবিমান, জ্বালানি বহনকারী বিমান এবং উদ্ধারকারী বিমান অন্তর্ভুক্ত ছিল। ট্রাম্প জানান, সেনাদের বড় ঝুঁকি নিতে হলেও কেউ আহত হয়নি। আহত এক সেনা রক্তাক্ত অবস্থায় পাহাড়ে উঠে নিজের অবস্থান জানাতে সক্ষম হয়েছিলেন।



ট্রাম্প আরও বলেন, শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে বিশেষ কৌশল নেওয়া হয়েছিল, কারণ হাজার হাজার মানুষ সেই সেনাকে খুঁজছিল। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা তিনি ধরা পড়া এড়িয়ে ছিলেন। কিছু মার্কিন বিমান ইরানের ভেতরে ফেলে আসতে হলেও সেগুলো শত্রুর হাতে পড়া থেকে বাঁচাতে নিজেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানান তিনি।



এই উদ্ধার অভিযানের তথ্য ফাঁস হওয়া নিয়েও ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এই তথ্য ফাঁস করেছে তাকে খুঁজে বের করা হবে। যারা এই খবর প্রকাশ করেছে, তাদের উৎস জানাতে হবে, না হলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে—এমন হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এতে সংবাদমাধ্যমে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ আগে থেকেই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।



এরপর জন র্যাটক্লিফ বলেন, এই অভিযান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মানব ও প্রযুক্তিগত সহায়তা একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে এবং শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে সেনাটি পাহাড়ের একটি ফাটলে নিরাপদে লুকিয়ে ছিল।



অন্যদিকে পিট হেগসেথ বলেন, এই অভিযানের ফলে ইরানের সেনাবাহিনী অপমানিত হয়েছে। তিনি জানান, শত্রু এলাকায় প্রবেশ করে সেনাদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা অসাধারণ সাহস দেখিয়েছে। তিনি সতর্ক করেন যে ইরানের ওপর আরও তীব্র আঘাত আসতে পারে।



মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক ডেন কেন বলেন, এই উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রথমে এক সেনাকে খুঁজতে বিমান পাঠানো হলেও শত্রুপক্ষের গুলিবর্ষণের কারণে সেটিকে কাছের মিত্র দেশে যেতে হয়। পরে নিরাপদে অবতরণ করে পাইলটকে উদ্ধার করা হয়। এরপর দ্বিতীয় সেনার খোঁজ চলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তাকেও নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।



ট্রাম্প শেষে বলেন, "পৃথিবীর যেখানেই হোক না কেন, আমেরিকা তাদের সেনাদের ফিরিয়ে আনবে।" তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার জন্য কষ্ট সহ্য করতে প্রস্তুত এবং শাসনের বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ দেখতে চায়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad