ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৭ এপ্রিল ২০২৬: 'প্রেম বড় মধুর'- জনপ্রিয় বাংলা গানের একটি লাইন। কিন্তু এই প্রেম কতক্ষণ মধুর থাকবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির আচরণে। যেমন এই প্রেমের জেরেই ঝাড়খণ্ডে ঘটে গিয়েছে মারাত্মক একটি ঘটনা। পথের কাঁটা স্ত্রীর দুই প্রেমিককে মারার ছক কষে নিজেই খুন হলেন স্বামী । ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ এবং এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য সমাধানে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য। আসুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত -
প্রেম ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ঝারিয়ার জোড়াপোখরা থানা এলাকায় মোহাম্মদ শামিম আনসারি ওরফে গুড্ডু শেঠ (৩৬)-কে গুলি করে খুনের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে এবং দ্রুত এর সমাধান করে দুই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের একজনের নাম সিধু (মৃত ব্যক্তির কর্মচারী) এবং অন্যজন গিরিডিহের বাসিন্দা শুভম সিং। এছাড়াও তিনজন নাবালককে আটক করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, গুড্ডুর স্ত্রীর সঙ্গে শুভমের দুই বছর ধরে প্রেম চলছিল। আবার সিধুও তার সঙ্গে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ করত।
একসময়ে গুড্ডু তাঁর স্ত্রীর এই অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর প্রচণ্ড রাগ হয় এবং তিনি তাঁর স্ত্রীয়ের প্রেমিক শুভম ও তাঁর কর্মচারী সিধুকে প্রাণে মারার জন্য ভাড়াটে খুনি নিয়োগের পরিকল্পনা করেন ১০ই এপ্রিল। এদিকে শুভম এই পরিকল্পনার কথা জেনে যায় এবং সিধুর সঙ্গে মিলে ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করে। ১২ই এপ্রিল রাতে গুড্ডুকে একটি নির্জন ওবি ডাম্প (কয়লা খনি) এলাকায় ডেকে পাঠায় সিধু। সেখানে সে শুভমের সাথে মিলে গুড্ডুকে গুলি করে মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গুড্ডুর।
এই ঘটনায় শহর পুলিশ সুপার ঋত্বিক শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে। অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একটি ৭.৬৫ মিমি দেশীয় পিস্তল, একটি ভাঙা অ্যাপল মোবাইল ফোন এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। যদিও মৃতের স্ত্রীর জবানবন্দির ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই তদন্তে এখনও তাঁর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়নি, তবে পুলিশ তাঁর ওপর নজর রাখছে।

No comments:
Post a Comment