দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নির্বাচনের আবহেই হাড়হিম কাণ্ড, একটি ঘরে পড়ে রয়েছে বধূর দেহ। পাশের ঘরেই ঘুমিয়ে আছে ছোট্ট অসুস্থ ছেলে। পলাতক বাড়ির কর্তা। স্ত্রীকে খুন করে পলাতক অধ্যাপক স্বামী, এমনই অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। রবিবার নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি আবাসনে ঘটেছে এই ঘটনা। ওই আবাসনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে এক মহিলার মরদেহ উদ্ধার হয়। সেই সময় পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিল ওই দম্পতির আট বছরের অসুস্থ ছেলে। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক স্বামী।
জানা গিয়েছে, মৃতা ওই গৃহবধুর নাম এনাক্ষী দাস এবং স্বামীর নাম সৌমিক দাস। স্বামী পেশায় অধ্যাপক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দম্পতি প্রায় চার বছর আগে তাঁদের সন্তানকে নিয়ে এই আবাসনে বসবাস শুরু করেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁদের মেলামেশা অনেকটাই কম ছিল।
এই বিষয়ে ওই ফ্ল্যাটের পরিচারিকা রিংকু অধিকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে শনিবার রাত আটটা নাগাদ গৃহবধূকে ফোনে না পেয়ে রবিবার সকালে ফ্ল্যাটে আসেন তিনি। বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে ওই পরিচারিকা উপরে ওঠে দরজায় হাত দিতেই দরজাটি খুলে যায়। ভিতরে ঢুকে তিনি দেখেন এক ঘরে ছেলে ঘুমিয়ে রয়েছে। পাশের ঘরে মশারি টাঙানো বিছানায় গৃহবধূর নিথর দেহ পড়ে আছে। স্বামী সৌমিক দাসের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ থেকেই সন্দেহ, তিনিই এই হত্যাকাণ্ডের হোতা।
এরপর আবাসনের বাসিন্দারাই খবর দেন নরেন্দ্রপুর থানায়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে। কিছু দূরেই থাকতেন মৃতার বাবা-মা। তাঁদেরও খবর দেওয়া হয়। দেহটি উদ্ধার করে সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কীভাবে মৃত্যু হল, তা রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে, জানিয়েছে পুলিশ।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সম্পর্কের টানাপোড়েন, অসুস্থতা না আর্থিক সমস্যা, ঠিক কী কারণে এই খুন, সে বিষয়ে জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। পলাতক স্বামীর খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু হয়েছে।

No comments:
Post a Comment