প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০০:০২: কাশীর প্রতিটি কণায় কণায় বিরাজ করেন ভগবান ভোলেনাথ। এই শহর তার আধ্যাত্মিক শান্তি ও প্রশান্তির জন্য সুপরিচিত। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে ছুটে আসেন। বারাণসীতে শুধু কাশী বিশ্বনাথ মন্দির বা গঙ্গার ঘাটই নয়, এখানে এমন কিছু বিরল মন্দিরও রয়েছে, যেগুলোর ইতিহাস বহু শতাব্দী প্রাচীন। এই মন্দিরগুলো তাদের অনন্য গঠনশৈলীর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এরই মধ্যে একটি হল কাশীর ‘হেলে থাকা মন্দির’, যা ‘কাশী করবত’ নামে পরিচিত। এই মন্দিরটিও ভগবান শিবকে উৎসর্গ করা, এর নাম রত্নেশ্বর মহাদেব মন্দির।
৯ ডিগ্রি কোণে হেলে রয়েছে মন্দির
ইতালির পিসার বিখ্যাত মিনার প্রায় ৪ ডিগ্রি কোণে হেলে আছে এবং বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছে। কিন্তু প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, রত্নেশ্বর মহাদেব মন্দির প্রায় ৯ ডিগ্রি কোণে হেলে রয়েছে। এছাড়া এর উচ্চতাও পিসার মিনারের তুলনায় প্রায় ২০ মিটার বেশি। এই মন্দিরটি ‘মাতৃঋণ মহাদেব মন্দির’, ‘কাশীর হেলে থাকা মন্দির’ ও ‘কাশী করবত’ নামেও পরিচিত।
গঙ্গার জলে ডুবে থাকে মন্দির
এই মন্দিরটি মণিকর্ণিকা ঘাট ও সিন্ধিয়া ঘাটের মাঝামাঝি অবস্থিত এবং বছরের বেশিরভাগ সময় গঙ্গার জলে নিমজ্জিত থাকে। মন্দিরের গঠন এমন যে, নদীর জল অনেক সময় এর চূড়া পর্যন্ত ঢেকে দেয়।
মন্দিরের ইতিহাস
এই মন্দিরের ইতিহাস সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো লিখিত তথ্য পাওয়া যায় না, বরং লোকমুখে প্রচলিত নানা কাহিনিই বেশি পরিচিত। মনে করা হয়, উনবিংশ শতাব্দীতে এই মন্দির নির্মিত হয়েছিল।
হেলে থাকার পেছনে লোককথা
মন্দিরটি হেলে থাকার পেছনে নানা লোককথা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি কাহিনি খুবই পরিচিত। বলা হয়, রাজা মানসিংহের এক ভৃত্য তার মা রত্নাবাইয়ের স্মরণে এই মন্দিরটি নির্মাণ করান। মন্দির তৈরি হওয়ার পর তিনি গর্ব করে ঘোষণা করেন যে তিনি তার মায়ের ঋণ শোধ করেছেন। সেই কথার পরেই মন্দিরটি একদিকে হেলে পড়ে—যেন বোঝাতে চায়, মায়ের ঋণ কখনও শোধ করা যায় না।
আরেকটি কাহিনি অনুযায়ী, রানি অহল্যাবাই হোলকর কাশীতে নানা মন্দির ও কুণ্ড নির্মাণ করাচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর এক দাসী রত্নাবাই মণিকর্ণিকা কুণ্ডের পাশে শিবমন্দির নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি রানির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। মন্দিরের সৌন্দর্য দেখে রানি খুবই সন্তুষ্ট হন, কিন্তু তিনি দাসীকে নিজের নামে মন্দিরের নাম না দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে দাসী নিজের নামেই মন্দিরটির নাম রাখেন। এতে রানি অসন্তুষ্ট হয়ে অভিশাপ দেন যে এখানে খুব কমই পূজা-অর্চনা হবে।
আজও নিয়মিত পূজা হয় না
এই মন্দিরের গর্ভগৃহ বছরের প্রায় ছয় মাস জলের নিচে থাকে। বর্ষাকালে তো অনেক সময় চূড়া পর্যন্ত জল ঢেকে দেয়। তাই এই সময় কোনো পূজা-অর্চনা করা হয় না। অনেকের বিশ্বাস, এই মন্দির অভিশপ্ত, এবং এখানে পূজা করলে গৃহে অশান্তি নেমে আসতে পারে।

No comments:
Post a Comment