কলকাতা, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩৪:০১ : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর বড় কারণ হলো ভোটার তালিকার বিশেষ গভীর পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া। এই সময় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এই বিষয়েই বুধবার (৮ এপ্রিল) তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাংসদ সাগরিকা ঘোষ, এছাড়া সাকেত গোখলে ও মেনকা গুরুস্বামী। বৈঠকের পর তৃণমূল নেতারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বৈঠক শেষ করে দেন। তাঁর কথায়, তাঁরা নির্বাচন কমিশনকে বহু চিঠি লিখেছেন এবং একাধিক উদাহরণ দিয়েছেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এই বিষয়গুলো জানাতেই তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল।
ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, বৈঠকে যা ঘটেছে তা লজ্জাজনক। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন ঘটনা দেখেননি বলেও উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ওই বৈঠকের অডিও বা দৃশ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।
তিনি আরও জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে লোকসভা ও রাজ্যসভায় নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে সমমনা দলগুলোর একটি বৈঠক বিকেল পাঁচটায় কনস্টিটিউশন ক্লাবে হবে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, সূত্রের দাবি বৈঠকের সময় ডেরেক ও’ব্রায়েন উচ্চস্বরে কথা বলেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাকি তাঁকে শালীনতা বজায় রাখার অনুরোধ করেন এবং বলেন, চিৎকার বা অসভ্য আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সাকেত গোখলে। তিনি বলেন, তিনি নিজে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং এমন কিছু ঘটেনি। তাঁর দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনকে বৈঠকের লিখিত বিবরণ প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জ জানান, না হলে তৃণমূল নিজেই তা প্রকাশ করবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসকে স্পষ্ট জানিয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে এবারের নির্বাচন হবে ভয়মুক্ত, সহিংসতামুক্ত, হুমকিমুক্ত, প্রলোভনমুক্ত এবং কোনো রকম জবরদস্তি বা বাধা ছাড়াই।
তৃণমূল কংগ্রেস তাদের স্মারকলিপিতে জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কিছু আধিকারিক নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন না, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করছে। কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের সময় আধিকারিকদের নিয়োগ ও বদলি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দলটি মনে করছে, এসব পদক্ষেপ নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ভোটারদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। তাই সন্দেহজনক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের সূচি
পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল, আর ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে ২০২৬। রাজ্যে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি জোর প্রচার চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পর্যন্ত শীর্ষ নেতারা প্রচারে ব্যস্ত। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও আবার ক্ষমতায় ফেরার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।

No comments:
Post a Comment