রাজ্যে বেআইনিভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিক ও অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রশাসনের তরফে কড়া নির্দেশ জারি হতেই মাঠে নেমে পড়ল জেলা প্রশাসন। সেই নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে ধরা পড়ল তিন বাংলাদেশি নাগরিক। তাঁদের রাখা হয়েছে লালগোলার বিশেষ হোল্ডিং সেন্টারে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, রানিতলা থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করা হয়। তদন্তে জানা যায়, তাঁদের কাছে ভারতে থাকার কোনও বৈধ নথি ছিল না। ধৃতদের নাম মহম্মদ সেলিম, মহম্মদ রুবেল ও শরিফুল ইসলাম। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাঁদের আর জেলে পাঠানো হয়নি। পরিবর্তে নতুন নিয়ম মেনে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিশেষ হোল্ডিং সেন্টারে।
সম্প্রতি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তাদের কাছে নির্দেশ পাঠানো হয় যে, সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে এ দেশে ঢোকা বিদেশি নাগরিক কিংবা রোহিঙ্গাদের সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে জেলে রাখা যাবে না। তাঁদের জন্য আলাদা হোল্ডিং সেন্টারের ব্যবস্থা করতে হবে। আদালতের প্রক্রিয়া শেষে সেখান থেকেই নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
এই নির্দেশের পরেই দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ প্রশাসন। লালগোলায় তৈরি করা হয় বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার। বর্তমানে ধৃত তিন বাংলাদেশিকে সেখানেই রাখা হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে তাঁদের পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করছে। সমস্ত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। মুর্শিদাবাদের এই পদক্ষেপকে ভবিষ্যতের বড় অভিযানের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

No comments:
Post a Comment