সরকারি কর্মীদের কাজের ধরনে বড়সড় বদল আনতে কড়া অবস্থান নিল রাজ্যের নতুন সরকার। এতদিন দেরিতে অফিসে আসা, দীর্ঘ টিফিন আর নির্ধারিত সময়ের আগেই বাড়ি ফেরার যে অভিযোগ উঠত, এবার সেই সংস্কৃতিতে লাগাম টানতে উদ্যোগী প্রশাসন। রাইটার্স ভবন থেকে জারি হওয়া নতুন নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট সময় মেনেই অফিসে হাজিরা দিতে হবে এবং কাজের সময় শেষ হওয়ার আগে অফিস ছাড়া যাবে না।
নতুন সরকারের দাবি, প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ও জনমুখী করতেই এই পদক্ষেপ। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রত্যেক সরকারি কর্মীকে সকাল দশটা পনেরোর মধ্যে অফিসে পৌঁছতে হবে। পাশাপাশি বিকেল পাঁচটা পনেরোর আগে অফিস ছাড়ারও অনুমতি থাকবে না। বহু বছর আগে জারি হওয়া পুরনো সরকারি নিয়মকেই আবার কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন, সরকার পরিচালনায় গুরুত্ব পাবে মানুষের স্বার্থ। তাঁর বক্তব্য, দপ্তরগুলিতে শুধু ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে সহমত পোষণ নয়, জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে স্পষ্ট মতামতও জানাতে হবে আধিকারিকদের। প্রশাসনিক প্রচারেও বাড়তি ব্যক্তিপূজার ছাপ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এর পাশাপাশি আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত কয়েক বছরে অবসরের পর পুনর্নিয়োগ পাওয়া বহু আধিকারিককে এবার দায়িত্বমুক্ত করা হচ্ছে। প্রশাসনের প্রকাশিত তালিকায় দুই শতাধিক আধিকারিকের নাম রয়েছে। অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রাক্তন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই তালিকায় রয়েছেন।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, পুরনো কাঠামোয় পরিবর্তন এনে নতুন প্রজন্মের আধিকারিকদের সামনে আনার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। সময়ানুবর্তিতা ও পুনর্নিয়োগে কড়াকড়ি— এই দুই পদক্ষেপ মিলিয়ে স্পষ্ট, নতুন সরকার প্রশাসনের গতি বাড়াতে কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত। এখন নজর, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি দপ্তরগুলির কাজের মান ও পরিষেবার গতিতে কতটা পরিবর্তন আসে।

No comments:
Post a Comment