"‘রাষ্ট্রবিরোধী’ ও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগানের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনা প্রয়োজন।"-তাপস রায় - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, May 15, 2026

"‘রাষ্ট্রবিরোধী’ ও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগানের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনা প্রয়োজন।"-তাপস রায়


 অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছাল। শাসক ও বিরোধী শিবিরের তীব্র বাকযুদ্ধের মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ ও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগানের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনা প্রয়োজন।

শুক্রবার নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু দায়িত্ব গ্রহণের পর শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এরপর বিভিন্ন দলের বিধায়কেরা বক্তব্য পেশ করেন। সেই পর্বের শেষে বক্তব্য রাখতে উঠে তাপস রায় নির্বাচনকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক লড়াই নয়, এক ধরনের ‘ধর্মযুদ্ধ’ বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধে যারা জয়ী হয়েছেন তাঁদের অভিনন্দন প্রাপ্য।

এরপরই তিনি অধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিধানসভার মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কোনওভাবেই দেশবিরোধী স্লোগান বরদাস্ত করা উচিত নয়। প্রয়োজনে আইন এনে এই ধরনের স্লোগান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবিও তোলেন তিনি।

তাপস রায়ের বক্তব্য চলাকালীন শাসক দলের বেঞ্চ থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক সরব হয়ে ওঠেন এবং অধিবেশন কক্ষে হইচই সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিজেপি বিধায়ক আরও কড়া সুরে বিরোধীদের আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করার সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষই ভবিষ্যতে তার জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, অতীতে যাদের আমলে হিংসার একাধিক অভিযোগ উঠেছে, তাদের মুখে এখন সেই অভিযোগ মানায় না।

অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাপস রায় আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ‘জয় বাংলা’, ‘মা-মাটি-মানুষ’ এবং ‘খেলা হবে’ ধরনের স্লোগান পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ নয়। তাঁর মতে, বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের স্লোগান ব্যবহার অনুচিত।

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে আইন প্রণয়ন করে এই স্লোগানগুলির ব্যবহার বন্ধ করার বিষয়েও ভাবা উচিত। যদিও রাজ্যজুড়ে এই ধরনের স্লোগানের উপর নিষেধাজ্ঞা আনার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট অবস্থান জানাননি।

সব মিলিয়ে, বিধানসভার প্রথম অধিবেশন থেকেই স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad