পোখরান শক্তি পরীক্ষার স্মরণে মোদির বার্তা, ভারতের ইচ্ছাশক্তি ও পারমাণবিক ইতিহাসে নতুন আলোচনার ঝড় - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, May 13, 2026

পোখরান শক্তি পরীক্ষার স্মরণে মোদির বার্তা, ভারতের ইচ্ছাশক্তি ও পারমাণবিক ইতিহাসে নতুন আলোচনার ঝড়


 প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি বার্তায় ১৯৯৮ সালের পোখরান পারমাণবিক পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই সময় ভারতের সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় অবস্থান বিশ্বকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল যে দেশ নিজের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

মোদি তাঁর বার্তায় আরও উল্লেখ করেন, ১১ মে ১৯৯৮ সালে প্রথম দফার পরীক্ষার পর ১৩ মে রাজস্থানের থর মরুভূমির পোখরানে দ্বিতীয় দফার সফল পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো হয়। এই সিরিজ পরীক্ষাকে ‘পোখরান দুই’ নামে পরিচিত করা হয়। ভারত মোট পাঁচটি পারমাণবিক ডিভাইস সফলভাবে পরীক্ষামূলকভাবে বিস্ফোরণ ঘটায়, যার মধ্যে তিনটি ছিল ১১ মে এবং দুটি ছিল ১৩ মে।

এই পরীক্ষাগুলোর প্রযুক্তিগত নাম ছিল শক্তি সিরিজ। আন্তর্জাতিক মহলে এগুলোকে ভারতের “পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শন” হিসেবে দেখা হয়। পরীক্ষার পর ভারতকে বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল, তবে সরকার তখন জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসেনি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই পুরো অপারেশনটির নাম ছিল ‘অপারেশন শক্তি’। এর নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী। বৈজ্ঞানিক দিক থেকে এই কর্মসূচির মূল দায়িত্বে ছিলেন ভারতের পরমাণু গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরা, যাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান নাম ছিল ড. এ পি জে আব্দুল কালাম, যিনি পরবর্তীতে ভারতের রাষ্ট্রপতি হন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষাগুলি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে সম্পন্ন করা হয়। বিস্ফোরণগুলো ভূগর্ভে করা হয়েছিল, যাতে পরিবেশে বড় ধরনের বিকিরণ ছড়িয়ে না পড়ে। পরবর্তী বিশ্লেষণে জানা যায়, এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে ভারত থার্মোনিউক্লিয়ার সক্ষমতা এবং উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জনের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।

এই পরীক্ষার পর ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে এক বড় মোড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এর পর থেকেই ভারত নিজেকে প্রকাশ্যে একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

মোদি তাঁর বার্তায় সাংস্কৃতিক দিকও তুলে ধরেন। তিনি সংস্কৃত শ্লোক উল্লেখ করে বলেন, শক্তি এবং সামর্থ্য আলাদা নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক। ক্ষমতা থাকলেই হয় না, সেটিকে কার্যকর করার জন্য শক্তি ও সঠিক নেতৃত্ব দরকার।

সার্বিকভাবে, পোখরান পরীক্ষাগুলো আজও ভারতের আধুনিক প্রতিরক্ষা ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দেশের কৌশলগত অবস্থানকে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad