কালীঘাট থানার প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি ও তদন্ত এড়িয়ে চলার অভিযোগে অবশেষে বড় অগ্রগতি। তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তিনি সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতরে হাজিরা দেন।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এই প্রাক্তন আধিকারিককে একাধিক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তলব করা হচ্ছিল। তবে বারবার ডাকা সত্ত্বেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয় এবং সেই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করা হয়।
এরপর তাঁর অবস্থান ও বর্তমান দায়িত্ব সম্পর্কে তথ্য জানতে কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তা দপ্তরে চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ওই চিঠিতে জানতে চাওয়া হয় তিনি কোথায় আছেন, কী দায়িত্বে রয়েছেন এবং কেন তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। তদন্তকারীদের দাবি, মূল লক্ষ্য ছিল তাঁকে দফতরে হাজির করানো নিশ্চিত করা।
গত এপ্রিল মাসের শেষদিকে ভোটের আগের সময়েও তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার জন্য ডাকা হয়েছিল। অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ এলাকার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপের মামলার সূত্র ধরেই তাঁর নাম উঠে আসে। ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি ও অস্ত্র আইন লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এই মামলার তদন্তে ইতিমধ্যেই এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সূত্র ধরে ফার্ন রোডে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়, যা দীর্ঘ সময় ধরে চলে। তবে সেই সময় তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
তল্লাশির পরদিনই তাঁকে এবং তাঁর দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলেও কেউই হাজির হননি বলে অভিযোগ। পাশাপাশি বালি পাচার সংক্রান্ত আরেকটি মামলাতেও তাঁকে ডাকা হয়েছিল। সে সময় তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়ে নেন।
শেষ পর্যন্ত লুক আউট নোটিশ জারির পর বৃহস্পতিবার তিনি তদন্তকারী দফতরে হাজিরা দেন। এখন তদন্তকারীদের ধারণা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সূত্র এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই সামনে আসতে পারে।

No comments:
Post a Comment