একদিকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে চলছে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে একই সময়ে কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজনৈতিক বার্তা দিলেন সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পঁচিশে বৈশাখের আবেগঘন সকালে কালীঘাটের বাড়ির কাছেই কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী পালনের আয়োজন করা হয়। সেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত, কবিপ্রণাম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যেই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সময় কাটান তৃণমূল নেত্রী। ভোটের ফল প্রকাশের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে কোনও কর্মসূচিতে দেখা গেল তাঁকে।
দলীয় সূত্রের দাবি, শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এই উপস্থিতির মধ্যে ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক ইঙ্গিতও। ব্রিগেডে নতুন সরকারের শপথের দিনেই রাস্তায় থেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দিতে চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আগামী দিনে তৃণমূলের লড়াই নিয়েও তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে আলোচনা করেন বলে খবর।
প্রথমে কালীঘাট এলাকায় একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের পরিকল্পনা ছিল। তবে অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির আশপাশেই আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটির।
মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন প্রতি বছর পঁচিশে বৈশাখে সরকারি অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময় কাটাতেন মমতা। রবীন্দ্র সদন চত্বরে কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানানো ছিল তাঁর বরাবরের কর্মসূচি। কিন্তু এবারের পঁচিশে বৈশাখ সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতার সাক্ষী। একদিকে ব্রিগেডে নতুন সরকারের উত্থান, অন্যদিকে কালীঘাটে দাঁড়িয়ে বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক লড়াইকে একসূত্রে বেঁধে রাখার চেষ্টা করলেন তৃণমূল নেত্রী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একই দিনে ব্রিগেড ও কালীঘাট— বাংলার রাজনীতির দুই ভিন্ন ছবি যেন পাশাপাশি উঠে এল শনিবারের কলকাতায়।

No comments:
Post a Comment