কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এফআইআর খারিজ করার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বিধাননগরে সাইবার সেলে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সেটাই খারিজের আবেদন জানিয়েছেন অভিষেক।
নির্বাচনী প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্য নিয়েই তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয় বিধাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায়। একাধিক জায়গায় অভিষেক যে সব বক্তব্য রেখেছেন, সেগুলির লিঙ্ক তুলে ধরে অভিযোগ জানানো হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ৫টি ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই এফআইআর খারিজ করার আবেদন জানিয়েই সোমবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক। গত ৫ মে বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার, অভিষেকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নির্বাচন চলাকালীন একাধিক জায়গায় উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়া, অভিষেকের বক্তব্যের এমন একাধিক লিঙ্ক তুলে ধরে মোট ৭ পৃষ্ঠার অভিযোগ জানান তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে, ৫ টি ধারায় এফআইআর দায়ের হয়।
এর মধ্যে তিনটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের ধারা রয়েছে। বিএনএস ১৯২, বিএনএস ১৯৬ (জামিন অযোগ্য), বিএনএস ৩৫১/২ (জামিন অযোগ্য) ধারা রয়েছে। এছাড়াও আরও দুটি ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন প্রায় প্রতি সভা থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ, ঝাঁঝালো ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি, গত ২৭ এপ্রিল এক জনসভায় বিজেপিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেকের মন্তব্য ছিল, “চার তারিখ বারোটার পরে কোন জল্লাদের কত ক্ষমতা আর কার দিল্লীর বাবা কাকে বাঁচাতে আসে আমি ৪ তারিখ দেখব।" এই বক্তব্যের ভিডিও লিঙ্ক অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও অভিষেকের এই ধরণের বক্তব্যের আরও কিছু লিঙ্ক রয়েছে অভিযোগপত্রে।
সেই এফআইআর খারিজ ও রক্ষাকবচ চেয়ে এবারে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন অভিষেক। সূত্রের খবর, অভিষেকের তরফে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর আইনজীবী অর্ক কুমার নাগ। তাঁর মক্কেলকে যেন রক্ষাকবচ দেওয়া হয়, সেই আবেদনও করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment