নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ: সরকারি প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক তৃণমূল নেতা। ধৃতের নাম হরিপ্রসন্ন মণ্ডল। জানা গিয়েছে, তিনি মুর্শিদাবাদের রানীনগর থানার চর রাজাপুর পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূলের বুথস্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ছিলেন। আজ, সোমবার তাঁকে লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। ধৃতকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে রানীনগর থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে বাংলা আবাস যোজনার তালিকা প্রকাশের পর চর রাজাপুর পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ১৫০টি পরিবারের কাছ থেকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘কাটমানি’ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। দীর্ঘ পাঁচ বছর কেটে গেলেও ঘর না পাওয়ায় ক্ষোভ জমছিল সাধারণ মানুষের মনে। সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে রানীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ হরিপ্রসন্ন মণ্ডলকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুনীতা রজক মণ্ডল বলেন,
'আমাদের প্রত্যেক পরিবারকে হুমকি দিয়ে মাথাপিছু ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। অনেকের সামর্থ্য না থাকায় লোন নিয়ে সেই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। পাঁচ বছর আগে নেওয়া সেই টাকা এবার সুদ সমেত ফেরত চাই।'
একই সুর শোনা গেছে রবি রাম মণ্ডল ও অনিমা মণ্ডলের গলাতেও। অনিমা মণ্ডল বলেন, 'সেই সময় আবাস যোজনার তালিকায় আমাদের নাম এসেছিল। কিন্তু টাকা না দিলে নাম কেটে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। আমরা এই দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।'
অন্যদিকে, ধৃত নেতার পরিবার এই ঘটনার পেছনে দলের ‘উপরমহল’-এর চাপ ছিল বলে দাবী করেছে।
হরিপ্রসন্নর মেয়ের কথায়, 'আমার বাবা নির্দোষ এবং স্বচ্ছভাবে রাজনীতি করতেন। ২০২১ সালে বাবাকে দলের ওপরমহল থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এলাকার মেম্বাররা টাকা তুলে বাবার হাতে দিত এবং বাবা সেই টাকা অঞ্চল সভাপতির নির্দেশে ওপরমহলে পৌঁছে দিতেন। এই দুর্নীতির কারণেই বাবা অনেকদিন আগে রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছিলেন। আমরা চাই প্রকৃত সত্য সামনে আসুক।'
এই চক্রে আর কোন কোন প্রভাবশালী নেতা জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে রানীনগর থানার পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রানীনগরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

No comments:
Post a Comment