লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২১ মে ২০২৬: গরম বাড়ার সাথে সাথে পেটের সমস্যাও দ্রুত বাড়তে থাকে। তীব্র রোদ, মশলাদার খাবার, অপর্যাপ্ত জলপান এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে বুকজ্বালা, গ্যাস ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা সাধারণ হয়ে ওঠে। অনেকেই সারাদিন বুকজ্বালা এবং টক ঢেকুরের সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি হজমতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। তাই, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার দিকে দ্রুত নজর না দিলে সমস্যাটি আরও গুরুতর হতে পারে। তবে, কিছু সহজ ঘরোয়া প্রতিকার এই বুকজ্বালা এবং অ্যাসিডিটি থেকে অনেকটাই স্বস্তি দিতে পারে। যেমন -
১. ঠাণ্ডা দুধ স্বস্তি দিতে পারে
আপনি যদি তীব্র বুকজ্বালা অনুভব করেন, তবে ঠাণ্ডা দুধ পান করা উপকারী হতে পারে। দুধে থাকা ক্যালসিয়াম অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং পেট ঠাণ্ডা রাখে। চিনি ছাড়া ঠাণ্ডা দুধ বেশি কার্যকর বলে মনে করা হয়।
২. মৌরি জল পান করুন
মৌরি শরীরকে শীতল রাখতে সাহায্য করে বলে পরিচিত। সারারাত জলে মৌরি ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই জল পান করলে পেটের উত্তাপ কমে যেতে পারে। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।
৩. আপনার খাদ্যতালিকায় ডাবের জল অন্তর্ভুক্ত করুন
ডাবের জল গ্রীষ্মকালে শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি পেটের অস্বস্তিও কমায়। এতে থাকা ইলেক্ট্রোলাইট অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।
৪. তুলসী পাতা চিবান
তুলসীতে এমন কিছু গুণ রয়েছে যা পেটের অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রতিদিন ৪-৫টি তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে গ্যাস এবং বুকজ্বালা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৫. ঠাণ্ডা দই এবং ঘোল পান করুন
দই এবং ঘোল পেটকে ঠাণ্ডা রাখে। এগুলিতে থাকা প্রোবায়োটিক হজমশক্তিকে মজবুত করতে সাহায্য করে। গ্রীষ্মকালে দুপুরের খাবারের সাথে ঘোল পান করা খুব উপকারী বলে মনে করা হয়।
৬. মশলাদার এবং ভাজা খাবার খাওয়া সীমিত করুন
অতিরিক্ত তেলযুক্ত এবং মশলাদার খাবার পাকস্থলীর অ্যাসিড বাড়িয়ে দিতে পারে। গ্রীষ্মকালে হালকা এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার খাওয়া ভালো।
৭. প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন
জলশূন্যতাও অ্যাসিডিটি বাড়িয়ে দিতে পারে। সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে এবং হজমশক্তি উন্নত হয়।
এরপরেও যদি বুকজ্বালা হতেই থাকে এবং তার সাথে বমি, পেটে ব্যথা বা ওজন হ্রাস হয়, তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। দীর্ঘস্থায়ী অ্যাসিডিটি কোনও গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণও হতে পারে। আর যে কোনও ঘরোয়া প্রতিকার গ্ৰহণ করার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

No comments:
Post a Comment