কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ের পর এবার সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করল বিজেপি। সমস্ত জল্পনা শেষে শুক্রবারই শেষ পর্যন্ত সামনে এসেছে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম। শুভেন্দু অধিকারী হচ্ছেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর উপস্থিতিতে দলীয় বিধায়করা তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন। এরপরই সন্ধ্যায় লোকভবনে পৌঁছে রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের দাবী পেশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবী জানিয়েছেন শুভেন্দুরা। একই সঙ্গে রাজ্যপালের হাতে বিধায়কদের স্বাক্ষরপত্র তুলে দেন বিজেপির সদ্য নির্বাচিত বিধায়কেরা। আগমীকাল শনিবার, ৯ মে শপথগ্রহণ করবে নতুন মন্ত্রিসভা। বাংলায় বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা। কাকে কোন মন্ত্রীত্ব দেওয়া হবে সেই দিকে নজর সকলের। এদিন শুভেন্দুর সঙ্গে লোকভবনে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষ, তাপস রায়, শান্তনু ঠাকুর, সুকান্ত মজুমদার এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি-রা।
বঙ্গে নতুন বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের। প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে দিল্লী থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে চেপে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করায় সকলেরই নজর ছিল রাজ্যপাল কী পদক্ষেপ করেন। কারণ ৭ মে মধ্যরাতে মেয়াদ শেষ হচ্ছিল মমতার নেতৃত্বাধীন সরকারের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মমতার নেতৃত্বাধীন সরকার ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাজ্যপাল আরএন রবি। বিবৃতি জারি করে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়াওয়ালা।
৯ই মে বাংলার জন্য একটি বিশেষ দিন, কারণ এই দিনে রবীন্দ্র জয়ন্তী। এই শুভ উপলক্ষে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকবেন। এদিকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শনিবার মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাই-প্রোফাইল এই সফর এবং জনজোয়ারের কথা মাথায় রেখে স্বাভাবিক ভাবেই নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকবে ময়দান-সহ রাজ্য রাজধানীর বিস্তীর্ণ অংশে। জানা গিয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে কমবেশি ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করেছে পুলিশ। নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ নিজেই।


No comments:
Post a Comment