বীরভূম: একসময় বীরভূমের রাজনীতিতে আতঙ্ক, দাপট ও বিতর্কের সমার্থক হয়ে উঠেছিল অনুব্রত মণ্ডলের নাম। এমনকি ফিরহাদ হাকিম তাঁকে বীরভূমের বাঘ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। বিরোধীদের উদ্দেশ্য অনুব্রতর সেই বহুল চর্চিত মন্তব্য, 'চড়াম চড়াম করে ঢাক বাজিয়ে দেব' গুড়-বাতাসা, নকুল দানা ইত্যাদি রাজ্যের রাজনৈতিক অভিধানে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরেছে। রাজ্যে এখন পদ্ম ফুটেছে। আর রাতারাতি যেন রাজনীতির ভাষাটাও বদলে গেছে। তবে, এই চড়াম-চড়াম রবিবার ফের প্রতিধ্বনিত হল কেষ্টর বাড়ির সামনেই।
এদিন বিজেপির বিজয় মিছিলকে ঘিরে বীরভূমের রাজনৈতিক আবহ ছিল তপ্ত। দলীয় পতাকা, আবির, স্লোগান আর ঢাকের তালে তালে এগোতে থাকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মিছিল। তবে গোটা ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে বোলপুরের নিচুপট্টি এলাকায় অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ির সামনে ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন দৃশ্য।
অভিযোগ, বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা অনুব্রতর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে ঢাক বাজাতে শুরু করেন। আর সেই ঢাকের শব্দের সঙ্গেই শোনা যায়, 'চড়াম চড়াম' স্লোগান। যা কার্যত অনুব্রত মণ্ডলের পুরনো রাজনৈতিক মন্তব্যকেই তাঁর বিরুদ্ধেই ফিরিয়ে দেওয়ার বার্তা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এই ঘটনায় সামনের সারিতে দেখা যায় সুমিত মণ্ডলকে। এলাকায় তিনি অনুব্রত মণ্ডলের ভাইপো হিসেবেই পরিচিত। স্থানীয়দের দাবী, এই সুমিতই বিজেপির বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে কাকার বাড়ির সামনে ঢাক বাজান। আর এই ঘটনাই এখন বীরভূমের রাজনৈতিক অলিন্দে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি বিজয় মিছিল নয়, এটি বীরভূমের ক্ষমতার সমীকরণ বদলের প্রকাশ্য প্রদর্শন। যে এলাকায় একসময় বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতেও ভয় পেতেন, সেই এলাকাতেই এখন বিজেপির কর্মীরা প্রকাশ্যে কেষ্ট মণ্ডলের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরই বাণী আওড়াচ্ছেন!
বিজেপির একাংশের দাবী “এটা মানুষের ক্ষোভ আর পরিবর্তনের উদযাপন।” যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ এই ঘটনাকে ‘অশালীন রাজনৈতিক উস্কানি’ বলে কটাক্ষ করেছে। তবে, রাজনৈতিক মহলের বড় অংশের মত, বীরভূমের রাজনীতিতে এই দৃশ্য আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে।
তবে, এমন ঘটনাও যে ঘটতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি অনুব্রত মণ্ডল।


No comments:
Post a Comment