কলকাতা: কিছুতেই থামছে না স্ট্রং-লড়াই। শনিবার রাতে সল্টলেক বিধাননগর কলেজের স্ট্রংরুমের সামনে তুমুল উত্তেজনা। ঝামেলায় জড়াল তৃণমূল-বিজেপি। দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি। ঘটনাস্থলে তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিধাননগর পুলিশের তরফ থেকে মাইকিং, এমনকি লাঠিচার্জ করতে হয়।
এই সরকারি কলেজে বিধাননগর, রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রের ইভিএমগুলি রাখা হয়েছে। তার সামনে বিজেপি ও তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা পাহারায় ছিলেন। আচমকাই দু'দলের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। অভিযোগ, ঘটনার সূত্রপাত বিজেপির তাঁবুতে তৃণমূলের ঝাণ্ডা জোর করে লাগিয়ে দেওয়া হয়। তখন রাত সাড়ে ১১টা বেজে গিয়েছে। নিমেষের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে যান রাজারহাট নিউটাউনের বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানুরিয়া, বিধাননগর কেন্দ্রের প্রার্থী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, রাজারহাট নিউটাউনের তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়।
তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় দলেরই কর্মী-সমর্থকেরা স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগান তুলতে থাকে। পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। মাইক প্রচার করে দু'পক্ষকে এলাকা থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয় পুলিশের তরফে। তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় দলের কর্মীদেরই সেখানে জমায়েত না করতে অনুরোধ করে পুলিশ। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে চলে লাঠিচার্জ-ও। এনিয়ে কমিশনে অভিযোগ দায়ের করতে চলেছে দু'পক্ষই।
ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল ও বিজেপির এই স্ট্রং-লড়াই বারবার সামনে আসছে। বৃহস্পতিবার ভিডিও বার্তা দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী ও এজেন্টদের সতর্ক করেছিলেন, স্ট্রংরুম রাতভর পাহারা দিতে হবে। তারপরই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ তুলে ধর্নায় বসেছিলেন দুই তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা, কুণাল ঘোষ। অন্যদিকে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রংরুমে ছুটে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও। রাত পর্যন্ত সমস্ত গতিবিধি নজরে রাখেন। পরে অবশ্য কমিশন জানায়, তৃণমূলের সংশয় অমূলক, স্ট্রংরুমে পোস্টাল ব্যালট ভাগাভাগি করছিলেন আধিকারিকরা, সেটা গণনার প্রস্তুতি।
শুধু কলকাতা নয়, জেলার একাধিক জায়গায় এই স্ট্রংরুম নিয়ে কমবেশি ঝামেলার খবর সামনে আসছে। এরই মাঝে শনিবার রাতে বিধাননগর কলেজের সামনে তৃণমূল-বিজেপির এই সংঘর্ষ যেন এতে নতুন মাত্রা যোগ করল।


No comments:
Post a Comment