কলকাতা: বিধানসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির অর্থাৎ পিএসির চেয়ারম্যান। সাধারণ প্রথা অনুযায়ী পিএসির চেয়ারম্যান করা হয়ে থাকে বিরোধী দল থেকেই। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই নিয়ম মেনে বিরোধী দল থেকে চেয়ারম্যান করলেও তাঁদের এক পা ছিল তৃণমূলেই। আর কথায় তো আছেই, 'যেমন কর্ম তেমন ফল '। নতুন সরকার সেই পথেই হাঁটতে চলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই কমিটির চেয়ারম্যান পদটি বিরোধী শিবিরকে দেওয়াই রীতি। সেই রীতি মেনে এমন একজনকে বেছে নেওয়া হবে যিনি বিরোধী দলের গলার কাঁটা হয়ে থাকবেন। অথচ শাসক দলের দিকে আঙুল তুলতে পারবে না। এই ক্ষেত্রে দুই বিধায়কের নাম প্রাথমিকভাবে বেছে রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
গত পাঁচ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এমন দু’জনকে পিএসির চেয়ারম্যান করেছিল যাঁরা খাতায় কলমে পদ্ম-বিধায়ক হলেও দলবদল করে তৃণমূলে নাম লেখায়। এঁদের একজন হলেন প্রয়াত মুকুল রায় ও অন্যজন হলেন আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল। দুজনের ক্ষেত্রেই দলবদলের রেকর্ড রয়েছে। কিন্তু তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির তরফে বারবার এই দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও তৃণমূলের তরফে তা অস্বীকার করা হয়।
বিধানসভা সূত্রের খবর, যেহেতু বিরোধী দল থেকেই এই কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয় সেক্ষেত্রে আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দীকি প্রথম পছন্দ। যদি একান্তই তৃণমূল থেকে করা হয়, সেক্ষেত্রে এমন একজনকে বেছে নেওয়া হতে পারে যিনি অধ্যক্ষ ও মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের।
মানুষের রায়ে এবার বাংলার মসনদে বদল হয়েছে শাসকের। একসময়ের বিরোধীরা আজ শাসকের আসনে আর শাসক বিরোধী আসনে। এক বিধায়কের কথায়, গত পাঁচ বছর বিরোধীদের সঙ্গে শাসকের আচরণ বিজেপি ভুলে যায়নি। তাঁর মতে, এবার পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি চলছে। বিরোধীদের কীভাবে মর্যাদা দিতে হয়, সেই পাঠ শেখানো হবে। এমন একজনকে এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হবে যিনি বিরোধী দলের কাছে গলার কাঁটা হয়ে থাকবেন।

No comments:
Post a Comment