কলকাতা: 'তৃণমূলের মুষলপর্ব শুরু হয়ে গেছে', কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগ প্রসঙ্গে এভাবেই কটাক্ষ করলেন দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার প্রাতঃভ্রমণ সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেসকে এক হাত নিয়েছেন তিনি। দলের মধ্যেই বিদ্রোহ, দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দলকে নিশানা করেছেন তিনি।
লোকসভার স্পিকারের কাছে দলেরই আরেক সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কাকলির অভিযোগ, সংসদের ভিতরে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, "তৃণমূলে এই অসুখ প্রথম থেকেই ছিল। আজ মাথায় চড়ে বসেছে। যদুবংশের যেমন ধ্বংস হয়েছিল, তৃণমূলের তেমন মুষলপর্ব শুরু হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে তৃণমূল শেষ হয়ে যাবে।"
সম্প্রতি বাদুড়িয়ায় ধৃত তৃণমূল নেতার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছে। পাটক্ষেত থেকে বস্তা বস্তা টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই নিয়েও তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "কিছু সুবিধাবাদী, কিছু দুর্নীতিগ্ৰস্থ লোক মিলে সরকার চালাচ্ছিলেন। সকলের উদ্দেশ্য ছিল টাকা কামানো। মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে তাঁর পরিবার, এমনকি নীচু তলার কর্মীরাও টাকা কামাতে শুরু করেন। এত কামিয়েছেন যে, কেউ কোথায় প্যাক করে রেখেছেন, কেউ মাটির নিচে, ক্ষেতে পুঁতে রেখেছেন। তাহলে ভাবাই যায় এদের কাছে কত টাকা আছে। আর এই টাকা গরিব জনতার। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের লুট করা টাকা। জনতার কাছে এই টাকা আসা উচিৎ।"
এর পাশাপাশি অনুপ্রবেশ নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছে দিলীপ ঘোষের গলায়। তিনি বলেন, "বাংলাদেশী, রোহিঙ্গা যারা এখানকার নাগরিক নয়, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী তাঁদের যেতে হবে। এসআইআরের আগে পালানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু সমস্ত বিরোধী দল এদের আটকে রেখেছিল। আজ এঁরা বুঝে গেছেন। ভালো ভাবে বেরিয়ে যান নাহলে কপালে দুরাবস্থা আসবে। খারাপ দিন দেখতে হবে।"
তিনি বলেন, "২০০-৪০০ নয় প্রতিদিন লক্ষ লোককে পার করতে হবে। তাহলেই এখানে যে কোটি কোটি লোক লুকিয়ে আছে আর দেশের ক্ষতি করতে উঠেপড়ে লেগেছে, সব সুবিধা ভোগ করছে, দেশ এর থেকে নিস্তার পাবে। আর এরপর দেশ নতুন রূপে গড়ে উঠবে।"

No comments:
Post a Comment