উত্তর ২৪ পরগনা: 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তোলাবাজ, তাঁর ঔদ্ধত্য যেন লাটসাহেব, বাকি সবাই চাকর বাকর', প্রকাশ্য সভামঞ্চ থেকে বিস্ফোরক বাদুড়িয়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আব্দুর রহিম এই মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, 'তৃণমূলের সম্পূর্ণভাবে বিসর্জন হয়ে গেছে। তৃণমূল আর কখনও ফিরবে না, তৃণমূলের নাম, নিশানা কিছুই থাকবে না। জালিয়াতি, চিটিংবাজি, তোলাবাজির ওপরে এই দল চলছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাথা ফাটিয়ে রক্তের বিনিময়ে যে দল তৈরি করেছিলেন, সেই দল তাঁর ভাইপো ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিল।'
পরবর্তীতে বাদুড়িয়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েও বলেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তোলাবাজ, তাঁর ঔদ্ধত্য যেন লাটসাহেব বাকি সবাই চাকর বাকর। তার এই ব্যবহারের জন্য তৃণমূল দল শেষ হয়ে যাবে, আর থাকবে না। তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক-সাংসদরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলাবাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। অভিষেক তোলাবাজি, পয়সা ছাড়া কিছু চেনে না। ওকে যারা টাকা দিতে পেরেছে তারাই নেতা হয়েছে।"
তাঁর প্রশ্ন, "অভিষেকের এত সম্পত্তি কোথা থেকে এল? কি করতেন উনি?" তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ককের মন্তব্য, "বাংলার মানুষের মুখের রক্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড় পরিমাণ অর্থ জোগাড় করেছে। এর বিচার হবে। অভিষেক রেহাই পাবে না। আমি তৃণমূলে বিধায়ক থাকার সময় দেখেছি, পঞ্চায়েত ভোটে ছাপ্পা, পঞ্চায়েত লুট, তোলাবাজি, টিকিট বিক্রি, মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া, সেদিনই আমি বুঝেছিলাম অভিষেকের নেতৃত্বে এই দল আর থাকবে না, তৃণমূল বাংলা থেকে মুছে যাবে।"
তিনি আরও বলেন, "পঞ্চায়েত ভোটে টিকিটের জন্য আমি টাকা দিতে পারিনি বলে আমার বুথের টিকিটটা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সবাই এখন ঘরে ঢুকে গেছে, কেউ এখন বেরোচ্ছে না।"
বাদুড়িয়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিমের মন্তব্যকে সমর্থন করেছে রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপি। বিজেপির বসিরহাট জেলা কমিটির সদস্য বিশ্বজিৎ পাল বলেন, "উনি (তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক) একদম ঠিক কথা বলছেন। উনি বিগত পাঁচ তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন। উনি জানেন যে কাটমানিগুলো ওঠে, বালি কয়লা, গরুর তার ৭০ শতাংশ কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যেত। কাটমানি ছাড়া বাদুড়িয়াতে কিছুই চলতো না। এই কাটমানির পুরো দায়ভার নিতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।"
তাঁর কথায়, "তৃণমূল দল আছে কোথায়! তারা তো নেই। জনগণ বাংলা থেকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে।" তাঁর খোঁচা, "জনগণ কিছুদিন পরে দেখবেন, আইনিভাবে যে বাড়িতে বসবাস করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সে বাড়িটাও হয়তো থাকবে না। এর থেকে বড় অপমান আর কি আছে!"
তিনি আরও বলেন, "বিজেপি সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার করেছিল পশ্চিমবঙ্গে সেটাই হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কথা 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ' সেটাই আমরা করব। বাংলাকে সোনার বাংলা করব।" তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবাং মুডে এগিয়ে চলছেন, বাংলাকে তিনি উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবেন।"
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে কাজী আব্দুর রহিমকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। এরপরেই দিল্লীতে গিয়ে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটেই বাদুড়িয়ার বিধায়ক হয়েছিলেন আব্দুর। তাঁর বাবা কাজি আব্দুল গফ্ফরও ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজনীতিতে এক অন্যতম বড় নাম। দীর্ঘ দিন বাদুড়িয়ায় কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন তিনিও। পরবর্তী সময়ে তাঁর পুত্র আব্দুর কংগ্রেসের বিধায়ক হন। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যান আব্দুর। তৃণমূলের টিকিটে লড়ে ২০২১ সালে ফের বাদুড়িয়ার বিধায়ক হন তিনি। তবে এবারে আর টিকিট পাননি তিনি। তারপর তাঁর আবার কংগ্রেসে যোগদানকে 'ঘরে ফেরা' বলেই ব্যাখ্যা করেন আব্দুর।

No comments:
Post a Comment