বিনোদন ডেস্ক, ১৭ মে ২০২৬: এমন গাছের কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন যে, যেখানে একই সময়ে একাধিক জাতের আম ফলে। অনেকেই আবার অবাক হন যে, এটা কীভাবে সম্ভব! আসলে, এটি কোনও জাদু নয় বরং বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির এক বিস্ময়। এই কৌশলটি জনপ্রিয়তা লাভ করছে, বিশেষ করে আম গাছের ক্ষেত্রে, কারণ কৃষক এবং মালীরা কম জায়গায় একটি গাছেই একাধিক জাতের ফল ফলাতে পারছেন এর সহায়তায়। এই কৌশলটিকে 'জোড় কলম' বা গ্ৰাফটিং বলা হয়। এর মাধ্যমে একটি গাছেই একাধিক জাতের ফল ফলানো সম্ভব।
এই কৌশলটি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি বিশেষ করে আম গাছ এবং শাকসবজিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কলম করা কী, ফল চাষে এটি কীভাবে ব্যবহৃত হয় এবং এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে জেনে নেওয়া যাক।
জোড় কলম এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে দুটি ভিন্ন গাছের অংশ বা ডাল জুড়ে দিয়ে একটি নতুন গাছ তৈরি করা হয়। একে বলা হয় ‘রুটস্টক’ এবং এর সাথে অন্য একটি গাছের ডাল বা কাটিং জুড়ে দেওয়া হয়, যাকে বলা হয় ‘সায়ন’। যখন এই দুটি অংশ সঠিকভাবে জোড়া লাগে, তখন সেগুলো একটি একক গাছ হিসেবে বেড়ে ওঠে। এই কৌশলের মাধ্যমে একটি গাছেই বিভিন্ন জাতের ফল চাষ করা সম্ভব হয়, যেমন দশেরি, ল্যাংড়া এবং আলফনসো জাতের ফল।
আপনার বাড়িতে যদি সীমিত জায়গা থাকে এবং একটি গাছেই একাধিক জাতের আম ফলাতে চান, তবে জোড় কলম একটি ভালো পদ্ধতি। এটি করার জন্য, প্রথমে একটি স্বাস্থ্যকর ও মজবুত রুটস্টক বেছে নিন। তারপর, আপনি যে জাতের আম ফলাতে চান, সেই জাতের গাছ থেকে স্বাস্থ্যকর ও তাজা ডাল নিন। ডালটিতে সামান্য চিরে অন্য জাতের ডালটি প্রবেশ করান এবং প্লাস্টিক টেপ বা গ্রাফটিং টেপ দিয়ে আটকে দিন। দুটি অংশের মধ্যে সঠিক সংযোগ নিশ্চিত করাই হল সফল জোড় কলম পদ্ধতি। কয়েক সপ্তাহ পর যখন নতুন পাতা গজাতে শুরু করবে, তখন বুঝবেন গ্ৰাফটিং সফল হয়েছে।
জোড় কলম পদ্ধতিতে ফল চাষ করলে সঠিক পরিচর্যা অপরিহার্য। শুরুতে কলম করা গাছটিকে হালকা সূর্যালোকের মধ্যে রাখতে হবে। মাটিকেও অতিরিক্ত আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করতে হবে। অতিরিক্ত জল দিলে শিকড়ের ক্ষতি হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, গাছের শক্তি যেন সঠিক বৃদ্ধিতে নিবদ্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময় পর পর শুকনো বা দুর্বল ডালপালা ছেঁটে ফেলতে হবে। সময়ে সময়ে জৈব সার প্রয়োগ করুন। এটি গাছের ভালো বৃদ্ধি এবং দ্রুত ফল উৎপাদনে সহায়তা করে।

No comments:
Post a Comment