কলকাতা : রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এর জেরে বেজায় বিপাকে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক তৃণমূল নেতা-কর্মীরা দুর্নীতির দায়ে ধরা পড়েছেন। শুধু তাই নয়, টলিপাড়ার অন্দরেও আর্থিক দুর্নীতি এবং প্রভাবশালীদের যোগসূত্র নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। আর ঠিক এই সময়েই এক বড়সড় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সিদ্ধান্তের কথা সামনে আনলেন দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস। তিনি তৃণমূল নেতা তথা টলিউডের কলাকুশলীদের ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভ্রাতৃবধূ। সেই জুঁই বিশ্বাস সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তাঁর এবং স্বরূপ বিশ্বাসের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তারপরেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্যের বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলের অন্দরে।
গত কয়েক বছর ধরে চলা জল্পনায় কার্যত সিলমোহর দিয়ে স্বামী স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটার কথা স্পষ্ট করেছেন তিনি। ২০১৯ সাল থেকেই তাঁরা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলাদা থাকছিলেন আর এবার আইনি পথে হাঁটছেন জুঁই ও স্বরূপ। জুঁই জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরুতেই এই বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছিলেন তাঁরা। দক্ষিণ কলকাতার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের পাশাপাশি তিনি ছিলেন তৃণমূল সরকারের প্রভাবশালী বিশ্বাস পরিবারের বউমা। নিন্দুকরা ধরেই নিয়েছিল, যে স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী হওয়ায়, কেরিয়ারে তাঁর জুটবে আলাদা মাইলেজ। কিন্তু নিন্দুকদের এমন জল্পনাকে সব সময়ই নস্যৎ করেছেন জুঁই বিশ্বাস।
জুঁই জানান, ২০১৯ সাল থেকেই তিনি এবং স্বরূপ বিশ্বাস মিউচুয়াল সেপারেশনে রয়েছেন। ২০২০ সালে কোভিড পরিস্থিতিতে ঠিকানা বদল না করলেও, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর গত বছর থেকেই তিনি সম্পূর্ণ আলাদা ঠিকানায় চলে এসেছেন। জুঁই জানান, তাঁদের দুই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এতদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তিনি বলেন, “আমাদের দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে এখন টিনএজের দিকে যাচ্ছে। এই সময়ে আমি ওদের মেন্টাল হেলথকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”
সেইসঙ্গে জুঁই আরও বলেন, “এটা তো আমার ব্যক্তিগত জীবন, কোনও বিনোদন চ্যানেল নয়। রোজই তো চারদিকে প্রচুর বিচ্ছেদ হচ্ছে। আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জেনে জনগণের কোনও উপকার হবে না। তাই এটা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার পক্ষপাতী ছিলাম না। আইনি প্রক্রিয়া চলছে, যত দ্রুত সম্ভব এটা মিটে যাক, সেটাই চাই।”
বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে জুঁই বলেন, '২০১৯ সাল থেকেই আমরা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে পৃথক ভাবে থাকছিলাম। চলতি বছরের শুরুতেই আমাদের ডিভোর্সের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'এই সিদ্ধান্ত হুট করে নেওয়া নয়। দীর্ঘ দিনের।'
এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

No comments:
Post a Comment