নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ের ভেতর থেকে উদ্ধার অসংখ্য ভোটার কার্ড। সেইসাথেই উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ জব কার্ডও। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের করসা ২ নম্বর অঞ্চলে অঞ্চলে ছোটতোড়া (মধ্য) বুথ তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ের ভেতর থেকে পাওয়া গেল এই অসংখ্য জব কার্ড ও ভোটার কার্ড। রবিবার সকালে এই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। কীভাবে এইকার্ডগুলো এল? কেনই বা ওখানে রাখা হয়েছিল? উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
এদিন সকালে এলাকার কিছু বিজেপি কর্মীরা লক্ষ্য করেন যে, তৃণমূলের এই বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়টি খোলা হয়। অভিযোগ, তারপরে সামনে একটি দাঁড়িয়ে থাকা টোটোতে কিছু মালপত্র উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই সেই বিজেপির কর্মীদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে ঢোকেন এবং আলমারি খুলতেই তাঁদের চক্ষু চড়ক গাছ। আলমারিতে থরে-থরে সাজানো রয়েছে জব কার্ডের বই, নানান রকম দলিল, জমির দলিল, অসংখ্য ভোটের কার্ড।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গড়বেতা থানার পুলিশ। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আলমারির একটি অংশ খোলা যায়নি। এলাকার মানুষ-সহ বিজেপি কর্মীরা মনে করছেন এই অংশটা খুললেও এখান থেকে আরও অবৈধ নথিপত্র পাওয়া যেতে পারে।
এই বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা পলাশ সেন বলেন, "দেখলাম তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হাজার হাজার ভোটার কার্ড। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন থেকেই দাবী করে আসছিলেন যে, অবৈধ ভোটার কার্ড, অবৈধ রোহিঙ্গা পশ্চিমবাংলায় দিকে দিকে ছেয়ে গেছে। তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ আজ এই তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়। এখানে হাজার হাজার ভোটার কার্ড, আধার কার্ড পড়ে রয়েছে।"
তাঁর দাবী, খুঁজলেই তৃণমূলের সব দলীয় কার্যালয়ে এমন অবৈধ ভোটার কার্ড, আধার কার্ড পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, এটাই হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট ব্যাঙ্ক। জব কার্ড উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সাধারণ মানুষের টাকা আটকে আছে কিসের জন্য! জব কার্ডের কাজে যে দুর্নীতি তার জলজ্যান্ত প্রমাণ হল তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে এগুলো পাওয়া যাচ্ছে।"
তাঁর কথায়, "এর উপযুক্ত ব্যবস্থা আমরা করব। প্রশাসনকে বলব অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেয়।" এ বিষয়ে তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিকে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে থাকা আলমারিতে এত জব কার্ড, ভোটার কার্ড কোথা থেকে এল? কেনই বা এল? সেটাই খতিয়ে দেখছে গড়বেতা থানার পুলিশ।


No comments:
Post a Comment