ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৮ মে ২০২৬: দক্ষিণ মুম্বাইয়ের বিরিয়ানির পর তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুতে নতুন মোড়। সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। কালিনা-ভিত্তিক ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল)-এর একটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তরমুজ এবং মৃতদের শরীরের বিভিন্ন অংশে জিঙ্ক ফসফাইড পাওয়া গেছে, যা সাধারণত ইঁদুরের বিষে ব্যবহৃত হয়।
২৬শে এপ্রিল রাতে, আব্দুল ডোকাদিয়ার (৪৪) বাড়িতে একটি পারিবারিক মিলন অনুষ্ঠান হয়। পরিবারটি আত্মীয়দের সাথে চিকেন বিরিয়ানি খায়। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর, রাত প্রায় ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তরমুজ খায়। তরমুজ খাওয়ার কয়েক ঘন্টা পর আব্দুল, তাঁর স্ত্রী নাসরিন (৩৫) এবং তাঁদের দুই মেয়ে আয়েশা (১৬) ও জয়নাব (১৩)-এর তীব্র বমি ও ডায়রিয়া হৎ। পরিবারটিকে প্রথমে একজন স্থানীয় ডাক্তারের কাছে এবং পরে জেজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনই মারা যান।
মুম্বাই পুলিশের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদন অনুসারে, মৃত সকলের যকৃৎ, বৃক্ক, প্লীহা এবং পাকস্থলীর নমুনায় জিঙ্ক ফসফাইড পাওয়া গেছে। পরীক্ষার জন্য পাঠানো তরমুজের নমুনাতেও এই মারাত্মক রাসায়নিকটির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে, চিকেন বিরিয়ানি, জল বা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের নমুনায় কোনও বিষাক্ত পদার্থ পাওয়া যায়নি।
বাড়িতে আসা পাঁচজন অতিথির জবানবন্দি পুলিশ রেকর্ড করেছে। তাঁরা জানিয়েছেন যে, তাঁরা বিরিয়ানি খেয়েছিলেন কিন্তু তরমুজ খাননি। এ কারণেই তাঁরা খাদ্যে বিষক্রিয়ার অভিযোগ করেননি। এতে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বিষটি শুধুমাত্র তরমুজেই ছিল।
জেজে মার্গ থানা প্রাথমিকভাবে 'দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু'র একটি মামলা নথিভুক্ত করে। এখন, রিপোর্ট পাওয়ার পর, পুলিশ তদন্ত করছে যে ইঁদুরের বিষ (জিঙ্ক ফসফাইড) কীভাবে তরমুজে পৌঁছাল। এটা কি কারও ভুল, অবহেলা, নাকি ইচ্ছাকৃত ছিল? পুলিশ এখন ফরেনসিক ডাক্তারদের সাথে পরামর্শ করছে এবং বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে।

No comments:
Post a Comment