ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৫ মে ২০২৬: জল্পনা সত্যি করে বাড়ল পেট্রোল ডিজেলের দাম। লিটার প্রতি তিন টাকা বাড়ল দাম। আজ শুক্রবার থেকেই কার্যকর হবে এই বর্ধিত দাম, জানিয়েছে কেন্দ্র।
গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথমবার দেশের মানুষকে এক বছরের জন্য সোনা না কেনার আবেদন জানান এবং এরপর ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আবার সেই আবেদনের পুনরাবৃত্তি করতে। এর পরেই সরকার হঠাৎ করে সোনার ওপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেয় এবং সোনা ও রুপো আরও দামী হয়ে ওঠে।
সোনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী পেট্রোল ও ডিজেল সীমিত এবং সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে বলেছিলেন এবং এমন অনেক ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছিল যে এবারে জ্বালানির দামও বাড়তে পারে। ষ ঠিক সেটাই ঘটল এবং শুক্রবার দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম সরাসরি লিটার প্রতি ৩ টাকা করে বাড়ানো হল।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব এক তেল সংকটের সাক্ষী হয়। এর গুরুতর প্রভাব ভারতেও পড়ে এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারপর থেকেই দেশে মুদ্রাস্ফীতির বোমা ফাটতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের মানুষকে বিচক্ষণতার সাথে জ্বালানি ব্যবহার করার জন্য আবেদন করেছিলেন।
এর পরে, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন এবং তাঁর পর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-এর গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রাও বলেন যে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।
এতদিন থেকে ক্রমাগত যে ইঙ্গিতগুলো পাওয়া যাচ্ছিল, তা সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। এক ধাক্কায় প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ৩ টাকা বাড়ল। এই সর্বশেষ পরিবর্তনের পর, ২০২৬ সালের ১৫ই মে, শুক্রবার থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। রাজধানী দিল্লীতে পেট্রোলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ৯৭.৭৭ টাকা হয়েছে, সেখানে কলকাতায় তা বেড়ে হয়েছে ১০৮.৭৪ টাকা, মুম্বাইয়ে ১০৬.৬৮ টাকা এবং চেন্নাইয়ে ১০৩.৬৭ টাকা।
অন্যদিকে ডিজেলের দাম প্রায় ২.৮০ থেকে ৩.৩০ টাকা বেড়েছে। দিল্লীতে এখন প্রতি লিটার ডিজেল ৯০.৬৭ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কলকাতায় দাম বেড়ে হয়েছে ৯৫.১৩ টাকা, মুম্বাইয়ে ৯৩.১৪ টাকা এবং চেন্নাইয়ে ৯৫.২৫ টাকা।
প্রতিবেদন অনুসারে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বেড়েছে। এর ফলে ভারতের সরকারি মালিকানাধীন পেট্রোলিয়াম সংস্থাগুলো ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছিল। প্রকৃতপক্ষে, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসিএল), ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসিএল) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (এইচপিসিএল) তেলের দাম বাড়ার পরেও পুরনো দামে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি অব্যাহত রেখেছিল।
এর ফলে পেট্রোলিয়াম সংস্থাগুলোর ব্যাপক লোকসান হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়া সত্ত্বেও দেশে একই দাম বজায় রাখার কারণে তেল সংস্থাগুলো প্রতিদিন ১৬০০ থেকে ১৭০০ কোটি টাকা লোকসানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment