আসানসোল: পুলিশ ফাঁড়িতে ইট-পাথর বৃষ্টি, ব্যাপক ভাঙচুর। অভিযোগ, একদল উন্মত্ত জনতা অতর্কিতে এই হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার রাতে আসানসোেল উত্তর থানার জাহাঙ্গীর মহল্লায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শতাধিক লোক এসে হামলা চালায় পুলিশ ফাঁড়িতে। গোটা পুলিশ ফাঁড়ি তছনছ হয়ে যায়। ইট-পাথরের আঘাতে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর। তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাইকের আওয়াজ কম করতে বলা থেকে অশান্তি বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে হঠাৎই একদল উন্মত্ত জনতা আসানসোেল উত্তর থানার জাহাঙ্গীর মহল্লা ফাঁড়ির ওপরে চড়াও হয়। অভিযোগ, প্রথমে তারা ইঁট বৃষ্টি শুরু করে, এরপর ফাঁড়তে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকশো লোক মিলে ইঁট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। সংখ্যায় কম পুলিশকর্মীরা প্রাণভয়ে ফাঁড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতেই উন্মত্ত জনতা ফাঁড়ির ভেতর ঢুকে তাণ্ডব চালায়। চেয়ার-টেবিল থেকে শুরু করে ফাঁড়ির ভিতর যা যা ছিল সব ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়। বাদ যায়নি কাঁচের দরজা থেকে শুরু করে আসবাব, টিভি, কম্পিউটার, সিসিটিভি ক্যামেরাও। ইটের আঘাতে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহতও হয়েছেন।
আর শুধু পুলিশ ফাঁড়ি নয়। আশপাশে থাকা কয়েকটি কয়েকটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিরাট পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রথমে তারা লাঠিচার্জ করে উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। এরপর ঘটনাস্থলে পৌঁছন আসানসোেল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি পিভিজি সতীশ। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসে গিয়েছে। নতুন করে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার কোনও আশঙ্কা নেই। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে যারা হামলা চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করা হবে।" অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান তিনি।
আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসি সতীশের নেতৃত্বে এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত তা জানার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
ফাঁড়ির সামনে উত্তেজনা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর আসানসোলের তৃণমূল ও কংগ্রেসের কাউন্সিলররা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনগণকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁরা গুজবে কান না দেওয়ার জন্যও অনুরোধ করেন। স্থানীয় কাউন্সিলর সংবাদমাধ্যমে বলেন, 'মাইকের আওয়াজ কম করতে বলায় এই ভাঙচুর হয়েছে শুনেছি। কিন্তু সঠিক কারণ জানিনা। এখন সব নিয়ন্ত্রণে আছে। কাউন্সিলর হিসেবে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।'
ঘটনা ঘিরে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। মোতায়ন রয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

No comments:
Post a Comment