কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই একের পর এক কড়া পদক্ষেপ। অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে চলছে উচ্ছেদ অভিযান। শনিবার রাতেও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হাওড়া স্টেশন চত্বরে থাকা একাধিক অবৈধ দোকান ও স্টল। এই নিয়ে এবারে সুর চড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এটিকে বুলডোজার রাজনীতি আখ্যা দিয়ে সরব হয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার সমাজমাধ্যম পোস্টে লিখেছেন, "বাড়িঘর থেকে শুরু করে হকারের দোকান পর্যন্ত, গরিবরা রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের মূল্য দিচ্ছে। বাংলা বুলডোজারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নেতাজির ভূমিকে ভয়, বলপ্রয়োগ এবং সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে শাসন করা যায় না।"
তিনি লিখেছেন, "আজ আমরা যা দেখছি তা হল বাংলার মানুষের মর্যাদার ওপর এক আঘাত—দিনমজুর, পথের বিক্রেতা, ছোট দোকানদার এবং সেইসব সংগ্রাম করা পরিবার, যারা ইটের পর ইট গেঁথে নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছে। হাওড়া স্টেশনের আশেপাশে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান, তিলজলা ও পার্ক সার্কাসের রাস্তায় ফেটে পড়া অস্থিরতা ও ক্ষোভ এবং হঠাৎ আশ্রয় ও জীবিকা থেকে বঞ্চিতদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হতাশা এমন এক সরকারকে উন্মোচিত করে, যা মানবতার চেয়ে বাহ্যিক চাকচিক্যে বেশি আচ্ছন্ন।"
তিনি লেখেন, "যে সরকার আগে ভাঙে এবং পরে শোনে, সে বাংলার প্রকৃত চেতনাই ভুলে গেছে। যে কোনও রাজ্যের আসল প্রগতি মাপা হয় যে নিজের সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকদের সাথে কেমন আচরণ করে তা দিয়ে। না তো কত দ্রুত তাদের নিশ্চিহ্ন করতে পারে সেটা দিয়ে। সংস্কৃতি, সহানুভূতি এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ওপর নির্মিত এই রাজ্যে বুলডোজার কখনই শাসনের ভাষা হতে পারে না।"
উল্লেখ্য, হাওড়া রেল স্টেশনের বাইরে গঙ্গা ঘাট থেকে স্টেশন চত্বর পর্যন্ত নির্মিত অস্থায়ী দোকান ও অবৈধ স্থাপনাগুলো বুলডোজারের সাহায্যে ভেঙে ফেলা হয়। এই উচ্ছেদ অভিযানটি শনিবার রাতে চালানো হয়। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ), গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি), রেল আধিকারিকরা এবং হাওড়া সিটি পুলিশ যৌথভাবে এই উচ্ছেদ অভিযানটি চালায়।
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো এলাকা জুড়ে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। রেলওয়ের ভূমি পরিষ্কারকরণ অভিযানের অংশ হিসেবে, বাসস্ট্যান্ড ও গঙ্গা ঘাট এলাকার কাছে ফুটপাথ এবং সর্বসাধারণের ব্যবহারের স্থান দখল করে নির্মিত বেশ কয়েকটি অস্থায়ী দোকান ও স্থাপনা বুলডোজার এবং ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment