কলকাতা: প্রত্যাশামতোই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হলেন শাসকদলের মনোনীত প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নাম প্রস্তাব করেন। নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। বিরোধীরা কোনও প্রার্থী না দিয়ে রথীন্দ্রের নামে সায় দেওয়ায় তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবার থেকে বিধানসভার কার্যপদ্ধতি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। যাতে নিজেদের বিধায়কদের কার্যপদ্ধতি, বিরোধীদের আচরণ এবং সরকারের কাজের পদ্ধতি সবটাই মানুষ নিজের চোখে দেখতে পারেন।
শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় বক্তৃতা করতে উঠে বলেন, 'গঠনমূলক বিরোধিতা চাই। বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়।'
এদিন বিধানসভায় স্পিকার হিসাবে রথীন্দ্রনাথের নাম প্রস্তাব করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ বিজেপি বিধায়করা সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। বিরোধী দলের তরফে কাউকে প্রার্থী না করায় ধ্বনিভোটে স্পিকার নির্বাচিত হন রথীন্দ্র বোস। বিধানসভার ঐতিহ্য মেনে স্পিকার নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের ধন্যবাদ জানান।
এরপরই স্পিকারকে স্বাগত ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এই ঐতিহাসিক ভবনে বাজেট-সহ গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন লাইভ দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। অতীতের সব তিক্ততা ভুলেই বলছি, এই ভবনে নির্বাচিত বিধায়কদের পারফরম্যান্স যাতে জনগণ দেখতে পান, সেটার ব্যবস্থা করা দরকার। আমরা চাই না বিধানসভায় নির্ধারিত কর্মসূচি অহেতুক ভেস্তে দিক বিরোধীরা। বিধানসভাটা মারামারির জায়গা নয়। আমরা চাই না কোনও অপরাধ ছাড়াই ১১ মাস কোনও বিরোধী নেতাকে হাউসের বাইরে থাকতে হোক। আমরা চাই না কোনও বিরোধী বিধায়ককে রক্তাক্ত অবস্থায় বিধানসভা ছাড়তে হয়।”
উল্লেখ্য, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী নিদেই দীর্ঘদিন সাসপেন্ডেড ছিলেন। আগের বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে রক্তাক্তও হতে হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ তুলেই প্রাক্তন শাসক দলকে খোঁচা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি বিধানসভায় সরকার এবং বিরোধী পক্ষ ৫০-৫০ ভাগ বক্তৃতার সুযোগ পাবে বলেই আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রথীন্দ্রনাথ বোস স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পরেই এদিন বক্তৃতা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তারপর নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে বক্তৃতা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগের প্রসঙ্গও। বক্তব্য রাখতে উঠে বিজেপি রাজ্য সভাপতির মন্তব্য টেনে এনে সরকারের উদ্দেশ্যে আক্রমণ শানান বিরোধী দলনেতা শোভনদেব। পাল্টা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিজেপি বিধায়কেরা। তাঁদের বাধা দিতে বারণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এরপর বিরোধী দলনেতার বক্তৃতার পর পাল্টা জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তারপর একে একে বক্তৃতা করেন বিজেপি বিধায়ক তথা প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়, আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীরা।

No comments:
Post a Comment