ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ মে ২০২৬: আবারও রেল দুর্ঘটনা। লাইনচ্যুত এক্সপ্রেস ট্রেনের একাধিক বগি। উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে উজ্জয়নী এক্সপ্রেস হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ইঞ্জিন ও বগিগুলো একটি দেওয়াল ভেঙে লাইনচ্যুত হয়। খান্ড গ্রামে শান্টিং কার্যক্রম চলাকালে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্টেশন ইয়ার্ডে ১৪৩১৭ নম্বর উজ্জয়নী এক্সপ্রেস ট্রেনটির শান্টিং চলাকালীন এই ঘটনাটি ঘটে। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, ট্রেনটি তখন খালি ছিল এবং কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সোমবার রাত ৯ টা নাগাদ ঘটেছে দুর্ঘটনাটি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ব্রেক সিস্টেমে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সৌভাগ্যবশত, ট্রেনটি খালি ছিল, তাই কোনও যাত্রী আহত হননি বা প্রাণহানি ঘটেনি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রেল আধিকারিক ও একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সিনিয়র কমার্শিয়াল ম্যানেজার মহেশ যাদব জানিয়েছেন যে, ইঞ্জিনের চাকা লাইনচ্যুত হয়েছিল এবং এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি রেলওয়ের কারিগরি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। ট্রেনটি খালি থাকায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে, নাহলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার প্রায় আড়াই ঘন্টা পরেও কোনও সিনিয়র রেল আধিকারিক ঘটনাস্থলে পৌঁছননি। খবর জানাজানি হতেই দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে থাকেন স্থানীয়রা। পরে সেখানে রেল পুলিশ পৌঁছে রেললাইন থেকে সকলকে সরিয়ে দেয়।
এই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে আরপিএফ সুপারিনটেনডেন্ট সরোজ কুমার জানান যে, রাতে উজ্জয়নী এক্সপ্রেসকে শান্ট করা হচ্ছিল এবং সেই সময়েই ঘটনাটি ঘটে। ট্রেনটির সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা ছিল এবং ছাড়ার আগেই ট্রেনটিকে শান্ট করা হচ্ছিল। তিনি জানান যে, রাত প্রায় ১০টার দিকে আরপিএফকে ঘটনাটি সম্পর্কে জানানো হয়, যার পরে একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
আরপিএফ সুপারিনটেনডেন্ট জানান যে, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটি খালি ছিল এবং এতে কোনও যাত্রী ছিল না। দুর্ঘটনার কারণ ও মাত্রা নিয়ে তদন্ত চলছে এবং তার পরেই কিছু বলা যাবে।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে বিহারের রোহতাসে সাসারাম-পাটনা ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনের একটি জেনারেল কোচে হঠাৎ আগুন লেগে স্টেশনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীবাহী ট্রেনটির একটি কোচ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর আগে, রবিবার মধ্যপ্রদেশের রতলামে তিরুবনন্তপুরম-নয়াদিল্লী রাজধানী এক্সপ্রেসের দুটি এসি কোচে আগুন লাগে। তবে দু'টি ঘটনাতেই কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।


No comments:
Post a Comment