ন্যাশনাল ডেস্ক, ২০ মে ২০২৬: রেলের জমিতে নির্মিত অবৈধ মসজিদ ভাঙতে চলল বুলডোজার। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা। প্রতিবাদের নামে রীতিমতো চলে তাণ্ডব, পুলিশকে লক্ষ্য করে উড়ে আসে পাথর ও জুতো-চপ্পল। এতে করে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হন। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়। পুলিশ পাথর ছোঁড়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে হেফাজতে নেয়। মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় বুধবার ঘটেছে এই ঘটনা।
ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর ও জুতো-চপ্পল উদ্ধার হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে, সুপরিকল্পিত ভাবে এসেছিল উন্মত্ত জনতার ওই ভিড়।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে ১,০০০-এরও বেশি পুলিশ উপস্থিত রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বুলডোজার চালানোর সময় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক জড়ো হয়ে যায়। পুলিশ তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে কিন্তু তারা আচমকাই পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এই সময় কয়েকজন পুলিশ আহতও হয়েছেন। এর জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাথর ছোঁড়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে গ্ৰেফতার করছে। বেশ কয়েকজনের মুখ শনাক্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।
উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার থেকে বান্দ্রার গরিব নগরে রেলের জমিতে নির্মিত প্রায় ৫০০টি অবৈধ স্থাপনা ভাঙতে বুলডোজার চলছে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ), মুম্বাই পুলিশ এবং পৌর কর্পোরেশনের আধিকারিকরা যৌথভাবে এই অভিযান চালনা করছেন। হাইকোর্টের নির্দেশে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
প্রশাসনের দাবী, বান্দ্রা রেল স্টেশনের আশেপাশে প্রায় ৫,০০০ বর্গমিটার রেলের জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও অবৈধ দখলগুলো সরানো না হওয়ায় শেষ উপায় হিসেবে বুলডোজার দিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিম রেল প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, এই জমি রেল উন্নয়ন কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যেহেতু এই অবৈধ দখলগুলো রেলের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, তাই উচ্ছেদ অভিযান জারি থাকবে।


No comments:
Post a Comment