কলকাতা: গ্ৰেফতার প্রশান্ত বর্মন। রাতভর আটক থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্ৰেফতার করল পুলিশ। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং গাড়ি দিয়ে পথচারীকে ধাক্কা মারার মতো মারাত্মক অভিযোগে রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে সোমবার রাতেই আটক করে বিধাননগর ইকো পার্ক থানার পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে 'মোটর ভেহিকলস অ্যাক্ট'-এর আওতায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে বারাসত আদালতে পেশ করা হবে। জানা যাচ্ছে, স্বর্ণব্যবসায়ী খুনের মামলাতেও তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানাবে পুলিশ।
সোমবার রাতে এক ব্যক্তি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন (এর সত্যতা যাচাই করেনি প্রেসকার্ড নিউজ)। সেই ভিডিওতে দেখা যায় যে, কলকাতার নিউটাউন এলাকায় একটি বড় গাড়িতে চালকের আসনে বসে রয়েছেন অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। এক ব্যক্তি তাঁর সেই পরিচয় উল্লেখ করে জানাচ্ছেন যে, প্রশান্ত মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তিকে ধাক্কা মারে।
ভিডিও করা হচ্ছে বুঝে প্রথমে প্রশান্ত থামাতে যান ওই ব্যক্তিকে। তারপর তাড়াতাড়ি মাস্কে মুখ ঢাকতেও দেখা যায় তাঁকে। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গাড়ির সামনের দিকে ডেন্ট দেখা যায়। অভিযোগ, প্রশান্তের গাড়ি এসে ধাক্কা মারে এক ব্যক্তিকে। ভিডিওতে দেখা যায়, আহত ব্যক্তির পায়ে বেশ ভালোই চোট রয়েছে। পা ফুলে ও কেটেও গিয়েছে সেই ব্যক্তির। যে ব্যক্তির পায়ে চোট লেগেছে, তিনি এসে ছিটকে পড়েন ভিডিও ধারণ করা ব্যক্তির বাইকের সামনে। কিন্তু সরাসরি ধাক্কা মারার অভিযোগ অস্বীকার করতেও শোনা যায় অপসারিত বিডিওকে।
শুধু তাই নয়, গালিগালাজ এবং হুমকি দিতেও শোনা যায় প্রশান্তকে। দুর্ব্যবহার থেকে বাদ যায়নি পুলিশও। কিন্তু প্রতিবাদকারী ব্যক্তিও দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন এবং পুলিশের কাছে প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান। ঘটনাস্থলে কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ আধিকারিকরা এসে পৌঁছয়। এরপর আটক করা হয় প্রশান্ত বর্মনকে।
গত অক্টোবরের সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। এই ঘটনায় পুলিশ তার সহযোগীদের গ্রেফতার করলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান প্রশান্ত বর্মন। কলকাতা হাইকোর্ট এমনকি সুপ্রিম কোর্ট তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও, তিনি তা পালন না করে গা ঢাকা দেন। এই পরিস্থিতিতেই চার্জশিটে তাঁকে 'পলাতক' বলে উল্লেখ করে নথি জমা দেয় পুলিশ। এরপর প্রশান্ত বর্মনকে বহুবার শিলিগুড়ির শিবমন্দিরে তার বাড়িতে ও এলাকায় দেখতে পাওয়া গেলেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি বলেই অভিযোগ উঠেছিল।
ইতিমধ্যেই, রাজ্যে পালাবদলের পর মনে করা হচ্ছিল, এবার হয়তো গ্রেফতার হতে পারেন প্রশান্ত বর্মণ। শেষ পর্যন্ত এদিন পথ সুরক্ষা বিধি ভঙ্গ করে নাটকীয়ভাবে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান তিনি। তারপর মঙ্গলবার গ্ৰেফতার হলেন প্রশান্ত বর্মন।

No comments:
Post a Comment