ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৩ মে ২০২৬: তামিলনাড়ু বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়লাভ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা টিভিকে চেয়ারম্যান থালাপতি সি. জোসেফ বিজয়। এরপর কয়েক ঘন্টা পর, বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছে নিট পরীক্ষা চিরতরে বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর পরীক্ষা বাতিলকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে, বিজয় দাবী করেছেন যে, রাজ্যগুলিকে দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে মেডিকেল আসন পূরণের অনুমতি দেওয়া হোক। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিলের ঘটনা লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর আশা ভেঙে দিয়েছে।
তিনি এই বিষয়ে জোর দেন যে, নিট লাগুর ফলে গ্রামীণ এলাকা, সরকারি স্কুল, তামিল মাধ্যম এবং আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই বিষয়টির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি নিট চিরতরে বন্ধ করার জন্য রাজ্যের দীর্ঘদিনের দাবী পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দাবী করেন যে, রাজ্যগুলিকে দ্বাদশ শ্রেণির নম্বরের ভিত্তিতে এমবিবিএস, বিডিএস এবং আয়ুষ পাঠ্যক্রমের জন্য সমস্ত রাজ্য কোটার আসন পূরণের অনুমতি দেওয়া হোক।
বিজয় বলেন ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) এই বছর ৩ মে ৫,৪৩২টি কেন্দ্রে নিট-ইউজি পরীক্ষা আয়োজন করেছিল। শুধুমাত্র তামিলনাড়ুতেই ৩১টি শহরে পরীক্ষা হয়েছিল। সারা দেশ থেকে মোট ২২,০৫,০৩৫ জন পরীক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে তামিলনাড়ুর প্রায় ১.৪ লক্ষ পরীক্ষার্থী ছিলেন। তদন্তকারী সংস্থাগুলো প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্ত করার পর, এনটিএ কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনক্রমে পরীক্ষাটি বাতিল করে দেয়। এই পুরো বিষয়টির তদন্তভার এখন সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে জোর দিয়েছেন যে, পরীক্ষা বাতিলের ফলে সারা দেশের লক্ষ লক্ষ মেডিকেলে ভর্তিতে ইচ্ছুদের আশা ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, এই প্রথমবার নয় যে নিট-এর পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। ২০২৪ সালেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল এবং ছয়টি রাজ্যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল, যা পরে সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর, কেন্দ্রীয় সরকার ইজরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ডঃ কে. রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বে একটি উচ্চ-স্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে, যা উন্নতির জন্য ৯৫-দফা বিস্তারিত সুপারিশ জমা দিয়েছে। তা সত্ত্বেও, দুই বছরের মধ্যেই আবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেল এবং পরীক্ষাটি বাতিল করতে হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেছেন, এটি জাতীয় স্তরের এই পরীক্ষার ত্রুটি এবং কাঠামোগত ঘাটতির সুস্পষ্ট প্রমাণ। তিনি বলেন, তামিলনাড়ু সরকার শুরু থেকেই ধারাবাহিক ও সর্বসম্মতভাবে নিট (NEET)-এর বিরোধিতা করে আসছে। এ কারণ হল এই পরীক্ষা গ্রামীণ এলাকা, সরকারি স্কুল, তামিল মাধ্যম এবং আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করেছে।
তিনি নিট পরীক্ষা চিরতরে বন্ধের দীর্ঘদিনের দাবী পুনর্ব্যক্ত করেন এবং কেন্দ্রকে অনুরোধ করেন, যেন রাজ্যগুলিকে এমবিবিএস, বিডিএস এবং আয়ুষ পাঠ্যক্রমের সমস্ত রাজ্য কোটার আসন দ্বাদশ শ্রেণির নম্বরের ভিত্তিতে পূরণ করার অনুমতি দেওয়া হয়।

No comments:
Post a Comment