নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: প্রতিদিনের ব্যস্ত রাস্তায় সামান্য অসচেতনতাই ডেকে আনছে বড় বিপদ। হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো কিংবা ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে বাড়ছে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা। সেই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবার রাস্তায় নেমেছে ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ প্রশাসন। গোপীবল্লভপুরে শুরু হয়েছে বিশেষ ট্রাফিক সচেতনতা অভিযান।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ট্রাফিক নিয়ম নিয়ে কড়া নির্দেশের পর তৎপর হয়ে উঠেছে ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ প্রশাসন। পথ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বার্তা নিয়ে গোপীবল্লভপুরে জোর প্রচার শুরু করেছে গোপীবল্লভপুর থানার পুলিশ। ট্রাফিক নিয়ম ভেঙে বিনা হেলমেটে বাইক চালালে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা, জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
সোমবার ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর থানা এলাকার সিধু-কানু-বিরসা সেতু সংলগ্ন এলাকায় পথচলতি বাইক আরোহী ও চারচাকা গাড়ির চালকদের উদ্দেশ্যে মাইকিং করে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়। এদিন গোপীবল্লভপুর থানার আইসি অজয় কুমার সিং নিজে সরজমিনে গিয়ে হেলমেটবিহীন বাইক আরোহীদের দাঁড় করিয়ে সচেতন করেন। পাশাপাশি পথ দুর্ঘটনা এড়াতে হেলমেট ব্যবহারের জন্য আবেদন জানান তিনি।
বাইক আরোহীদের সামনে হেলমেটের গুরুত্ব তুলে ধরে আইসি অজয় কুমার সিং বলেন, “নিজের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। তাই নিরাপদ থাকতে প্রত্যেককেই সচেতন হয়ে হেলমেট ব্যবহার করতে হবে।” পাশাপাশি চারচাকা গাড়ির চালকদের সিটবেল্ট ব্যবহার এবং শহরের রাস্তায় যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং না করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়।
ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) সৈয়দ মহম্মদ মামদুদুল হাসান জানান, পথ দুর্ঘটনা রুখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নাকা পয়েন্টে কড়া চেকিং চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে হেলমেটবিহীন বাইক আরোহীদের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বাইকে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে সচেতন করে হেলমেট ব্যবহারের জন্য আবেদন জানানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “একটি হেলমেটই দুর্ঘটনার সময় একজন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে। তাই নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রত্যেক বাইক আরোহীকেই হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ সূত্রে খবর, গত দুই বছরের তুলনায় বর্তমানে প্রতিদিন ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনায় জরিমানার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তাই দুর্ঘটনা রুখতে ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment