ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৫ মে ২০২৬: মীরাটের নীল ড্রাম কাণ্ড এখনও ভোলেনি দেশবাসী। এরই মাঝে নতুন আতঙ্ক 'সবুজ ড্রাম'। স্বামীর সঙ্গে মিলে প্রেমিককে খুন এবং তাঁর দেহ সবুজ ড্রাম-বন্দি করে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ প্রেমিকার বিরুদ্ধে। এমনকি প্রেমিকার বাড়ির অন্য সদস্যরাও এই খুনে জড়িত বলে অভিযোগ। মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে ঘটেছে এই হাড়হিম ঘটনা। পুলিশের মতে, ওই মহিলা তার প্রেমিকের কাছে কিছু টাকা চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা দিতে পারেননি। এরপর মহিলার স্বামী ও ভাই তাকে খুন করে।
এই ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বাইয়ের পার্শ্ববর্তী মুমব্রায়। জানা গিয়েছে, মৃতের নাম আরবাজ মাকসুদ আলী খান। আরবাজের প্রেমিকা মেহজাবীন শেখ, যিনি বিবাহিত ছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছিল ৩ এপ্রিল। আরবাজ কাজের জন্য দাদার যাচ্ছেন বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর ফিরে আসেননি।
ঘন্টার পর ঘন্টা খোঁজাখুঁজির পর সন্ধান না মেলায় আরবাজের বাবা মুমব্রা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ আরবাজের কল রেকর্ড এবং লোকেশন ট্র্যাক করতে শুরু করে। আরবাজের সর্বশেষ অবস্থান ছিল ভাসাই এলাকায়। তার প্রেমিকা মেহজাবীন শেখের ফোনটিও একই জায়গায় পাওয়া যায়। সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেহজাবীনকে হেফাজতে নেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এসিপি) প্রিয়া ধানকনে বলেন, "প্রাথমিকভাবে মেহজাবীন কোনও বিবরণ দিতে অস্বীকার করলেও, কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি তাঁর স্বামী, ভাই এবং ভাইয়ের বন্ধুর সহায়তায় আরবাজকে খুনের কথা স্বীকার করেন।"
তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আরবাজের থেকে টাকা আদায়। কিন্তু যখন তারা তার কাছ থেকে কোনও টাকা আদায় করতে পারেনা, তখন মেহজাবীন ও তার সহযোগীরা আরবাজের হাত বেঁধে, একটি প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। এতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর তারা তাঁর মৃতদেহ একটি সবুজ ড্রামে ভরে মুমব্রা এলাকার একটি নর্দমায় ফেলে দেয়।
পুলিশ মেহজাবীন ও তার ভাই তারিক শেখকে গ্রেফতার করেছে। তার স্বামী হাসান ও তার সহযোগী বর্তমানে পলাতক রয়েছে। জানা গেছে, তারিকের বিরুদ্ধে আরও মামলা নথিভুক্ত আছে। খুন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মুসকান রাস্তোগী তার প্রেমিক সাহিলের সাথে মিলে স্বামী সৌরভ রাজপুতকে খুন করে। ৪ঠা মার্চ মুসকান সৌরভের খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। এরপর সে ও সাহিল ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে খুন করে এবং দেহটি টুকরো টুকরো করে কেটে ১৫টি খণ্ড একটি ড্রামে ভরে ভেজা সিমেন্ট দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়। পরিকল্পনা ছিল পরে দেহটি সরিয়ে ফেলার। যদিও শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে তারা।

No comments:
Post a Comment