কলকাতা: বিশেষ অধিবেশন ডেকে সোমবার তৃণমূলের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। মোট ৩০ জনকে নিয়ে জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি করা হয়েছে। তবে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কোনও কথাই হয়নি তাঁদের বৈঠকে, জানিয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নতুন তৃণমূলের এদিনের বিশেষ বৈঠক শেষ হতেই খবর ছড়িয়ে পড়ে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে ঘটনা হল, এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও উচ্চারণ করেননি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে নিউটাউনের একটি হোটেলে বিশেষ বৈঠকে করেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিধায়করা।
নতুন তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির চেয়ারম্যান হয়েছেন অরূপ রায়, ঘোষণা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম-সহ আরও ২ জন। নিউটাউনের একটি হোটেলে সোমবার বিকেলে বিশেষ বৈঠক করেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিধায়করা। তৃণমূলের সংবিধানের সঙ্গে মিল রেখে এই বিশেষ অধিবেশন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
মাত্র ৩১ মিনিটেই নতুন তৃণমূলের এই বিশেষ বৈঠক শেষ হয়ে যায়। যার প্রথম ও শেষ উদ্দেশ্য ছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি তথা জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা। এত দিন সেই কমিটির সদস্য ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সুবাদেই ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটিতে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন অভিষেক।
ঋতব্রত দাবী করেন, তৃণমূল এখন এক অদ্ভুত সাংবিধানিক সংকটে রয়েছে। কারণ, দলের সংবিধানের ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী ৩ বছর অন্তত ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি করতে হবে। শেষবার ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি হয়েছিল। তার পর সেই তথ্য পেশ করা হয়েছিল নির্বাচন কমিশনে। দলের সংবিধান অনুযায়ী ওই কমিটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গেছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে দলের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি করতে হবে।
ঋতব্রত তৃণমূলের কর্মসমিতিতে রয়েছেন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সাবিনা ইয়াসমিন, সন্দীপন সাহা, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান, কাজল শেখ, জাভেদ খান। এছাড়াও রয়েছেন, ইমানি বিশ্বাস, মহম্মদ গুলাম রব্বানি, কানাইলাল আগরওয়াল, সমর মুখোপাধ্যায়, শিউলি সাহা, চন্দ্রনাথ সিনহা, অপূর্ব সরকার, আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়, খগেশ্বর রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিজিৎ সিনহা, দীনেন রায়।
অরূপ রায়কে দলের নতুন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করা হয়। আর সাধারণ সম্পাদক করা হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা ও জাভেদ খানকে। অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নন। তবে তাঁকে আলাদা করে আর সাসপেন্ড করা হয়নি। নতুন কমিটি তৈরি করে এমনিতেই দলের চেয়ারম্যান পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিয়েছেন ঋতব্রত-তৃণমূলরা।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কার করেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করতেই বিরোধী দলনেতা জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তাঁর প্রতিক্রিয়া, 'কে অভিষেক? সময় নষ্ট করে লাভ নেই'। তাঁর বক্তব্য, 'চার্টার্ড অভিষেক? তাঁকে নিয়ে কোনও কথাই হয়নি আর যাঁকে নিয়ে কোনও কথাই হয়নি, তাঁকে বহিষ্কারের প্রশ্ন কোথা থেকে আসছে!' পাশাপাশি প্রশ্ন ওঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গা নিয়েও। সেখানে ঋতব্রত স্পষ্ট জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে মার্গদর্শকের ভূমিকায় থাকতে পারেন।
সম্প্রতি সামনে এসেছিল যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চার্টার্ড ফ্লাইট ও কপ্টারের জন্য বিপুল টাকা খরচ করেছেন দলের তহবিল থেকে। সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে, নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'চার্টার্ড ফ্লাইটে চড়ে আক্রমণের মোকাবিলা করা যাবে না বরং সেই টাকাটা কর্মীদের জামিনের জন্য ব্যবহার করা যায়। আমাদের কর্মসমিতিতে এমন অনেক সদস্য রয়েছেন, যাঁরা বাড়ির গয়না বন্ধক রেখে কর্মীদের জামিনের ব্যবস্থা করেছেন।'

No comments:
Post a Comment