কলকাতা: চেতলা অগ্রণী ক্লাবের সুইমিং পুলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সোমবার সকালে সাঁতার কাটতে নেমে জলে ডুবে মৃত্যু হল এক তরুণের। মৃতের নাম ঋচিক চক্রবর্তী। তাঁর বয়স ১৯ বছর। তিনি কালীঘাটের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রতিদিনের মতো এদিনও সকালে সাঁতার কাটতে চেতলা অগ্রণী ক্লাবে আসেন ঋচিক। সকাল প্রায় ৮টা ৪০ মিনিট নাগাদ তিনি সুইমিং পুলে নামেন। সাঁতারের অনুশীলনের অংশ হিসেবে তিনি ‘ব্রিদ হোল্ড’ বা দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে নিঃশ্বাস আটকে রাখার অনুশীলন করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবী, প্রথমে সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আচমকাই জলের নিচে অচেতন হয়ে পড়ে যান ওই তরুণ। বিষয়টি নজরে আসতেই কর্তব্যরত প্রশিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীরা দ্রুত জলে নেমে তাঁকে উদ্ধার করেন। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁকে পুলের বাইরে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাঁকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তরুণের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, বন্ধু এবং সুইমিং ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে।
ঘটনার খবর পেয়ে চেতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানকার কর্মী, প্রশিক্ষক এবং উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, ব্রিদ হোল্ড অনুশীলনের সময় কোনও শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হতে পারে। পাশাপাশি সুইমিং পুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ঘটনাকালীন পরিস্থিতি এবং উদ্ধার প্রক্রিয়া নিয়েও তদন্ত চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, ঋচিক পরিচিত ও মিশুক স্বভাবের ছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়রা। কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার।
সাঁতার বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে নিঃশ্বাস আটকে রাখার অনুশীলনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা প্রয়োজন। প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধান ছাড়া বা শারীরিক সক্ষমতার সীমা অতিক্রম করলে বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এদিকে চেতলা অগ্রণী ক্লাবের সুইমিং পুলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও। যদিও ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবী, দুর্ঘটনা বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছিল এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চেতলা থানার পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের ফলাফল সামনে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এক সম্ভাবনাময় তরুণের এভাবে অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ কালীঘাট ও চেতলা এলাকা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিচিত মহলের কাছে এই ঘটনা এখনও অবিশ্বাস্য বলে মনে হচ্ছে। সকলের একটাই প্রশ্ন— কীভাবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল? সেই উত্তর খুঁজতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

No comments:
Post a Comment