স্পোর্টস ডেস্ক, ১৪ জুন ২০২৬: বাংলাদেশ ক্রিকেট বর্তমানে খবরের শিরোনামে। কারণ মাঠের বাইরের এক বড় বিতর্ক। বাংলাদেশের স্পিনার নাঈম হাসানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের অভিযোগ দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তিনজন পুলিশ কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাটি গত ১২ জুন রাতে চট্টগ্রামে ঘটে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাঈম হাসান ঢাকা বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে তাঁর দল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গে ছিলেন, যদিও তিনি সেই ম্যাচে অংশগ্রহণ করেননি।
জানা গেছে, নাঈম লালখান বাজার এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাঁর সিএনজি অটোরিকশাটি থামায়। নাঈমের অভিযোগ, পুলিশ শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল। তিনি দাবী করেন, পুলিশ তাঁর গলা চেপে ধরে তাঁকে জোর করে অন্য একটি অটোরিকশায় বসিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন পুলিশকে জানায় যে, নাঈম বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটার, কিন্তু অভিযোগ ওঠে, পুলিশ কারও কথা শোনেনি। পরে ১৩ জুন ভোরে নাঈমকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তিনি বাড়ি ফিরে যান। এই ঘটনাটি বাংলাদেশ জুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এরপর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যবস্থা নেয় এবং সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাসেল চৌধুরী ও আরেকজন পুলিশ কর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শওকত আলী নিজে নাঈম হাসানের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি বলেন, তদন্ত রিপোর্ট আসার পর দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে, পুলিশ কর্তারা স্বীকার করেছেন যে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। আধিকারিকরা আশ্বাস দেন যে, নাঈম ন্যায়বিচার পাবেন এবং দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে। পরে নাঈম হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি তখন খুব ভয় পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেখানে স্থানীয় লোকজন ও তাঁর সমর্থকরা উপস্থিত না থাকলে বিষয়টি আরও গুরুতর হতে পারত।

No comments:
Post a Comment