নিজস্ব সংবাদদাতা, দেগঙ্গা: সন্দেশখালিতে পিঠে বানাতে ডাকতেন শাহজাহান। এবারে মাছ ভাজতে ডাক আরও এক নেতার। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় শ্রীঘরে থাকা তৃণমূল নেতার নতুন কুকীর্তি ফাঁস! খোঁজ মিলল তাঁর বিলাসবহুল বাগান বাড়ির। রাতের অন্ধকারে এখানেই বসত মদের আসর, চলত অসামাজিক কার্যকলাপ। এমনকি মাছ ভাজার নাম করে মহিলাদের ডেকে এনে চলত ফুর্তি। এমনই অভিযোগ দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। রাজ্যে পালাবদল হতেই মুখ খুললেন স্থানীয়রা। ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত এই তৃণমূল নেতা। বিরোধী দলের কর্মীদের বাড়ি হামলা, ভাঙচুর, মারধর, মেছো ভেরি লুটপাট ও লক্ষাধিক টাকার জরিমানা নেওয়া-সহ রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে মাটি পাচার, কৃষি জমি দখল, অবৈধভাবে জমির চরিত্র বদল সহ একাধিক দুর্নীতির দায়ে আদালতের নির্দেশে দেগঙ্গা থানার পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল নেতা তথা দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম। সেই রবিউল ইসলামের একাধিক বাড়ির পাশাপাশি খোঁজ মিলল বিলাসবহুল বাগান বাড়ি।
অভিযোগ, কৃষকদের জমি দখল করে অবৈধভাবে মাটি পাচার করে তৈরি বিশালাকৃতির ঝিল, সেই ঝিলের পাশে শান বাঁধানো ঘাট, আর তার গা ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে রবিউলের সাধের বাগান বাড়ি। অভিযোগ, অন্ধকার নামতেই এই বাগানবাড়িতে বসত মদের আসর, চলত অসামাজিক কার্যকলাপ। এখানেই শেষ নয়, রবিউলের নামে অভিযোগ, তিনি
মাছ কাটা ও ভাজার নামে মহিলাদের ডেকে এনে ফুর্তির আসর বসাতেন। তারপর অত্যাচার চালাতেন তিনি ও তাঁর সাগরেদরা।
দেগঙ্গার হাসিয়াতেই রবিউল ইসলামের একাধিক বাড়ি-জমি। তৃণমূল নেতার প্রাসাদ দেখলে যে কেউ ভিমড়ি খাবেন। ঝিলপাড়ে প্রায় একশো বিঘা জমির ওপর দোতলা বাগানবাড়ি। কয়েকহাজার গাছ। অভিযোগ, বেশিরভাগই সরকারি। পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ হওয়ার সুযোগে সরকারি প্রকল্পের গাছ নিজের বাগানে বসাতেন রবিউল। এখানেই প্রায় ১০ কোটির সম্পত্তি রয়েছে। এমনকি মধুচক্র চালানোরও অভিযোগ রয়েছে রবিউলের বিরুদ্ধে। এতদিন আতঙ্কে মুখ' খুলতে পারেননি কেউ। এবারে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসায় সাহস করে মুখ খুলেছেন অনেকেই।
দেগঙ্গার এক বাসিন্দা রাজু আলি মণ্ডলের বক্তব্য, “এখানে বাগান বাড়ি করেছে। রাতে মাছ-মদের প্রোগ্রাম করে। জোর জবরদস্তি লোকের বউকে তুলে নিয়ে আসে। রান্নাবান্না করতে হবে বলে ডেকে নিয়ে আসে। এখান থেকে মাছ ধরে পঞ্চায়েত সমিতির মেম্বার বলে ভাজা কর খাব।" কিছু প্রভাবশালী নেতার হাত মাথায় থাকায় তাঁদের অভিযোগে কোনও কাজ হয়নি বলেই দাবী তাঁর।
অন্য বাসিন্দা জুলফিকর মোল্লার কথায়, "২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পরে তেতুলিয়া মৌজা থেকে ১০০ বিঘা জমির মাটি কাটে জোরজবরদস্তিভাবে। সেই মাটি নিয়ে ভাটায় বিক্রি করত। এর বিরুদ্ধে আমরা জেলাশাসকের দফতরে আরও অনেক জায়গায় অভিযোগ দিয়েছিলাম অন্য নাম করে। কারণ ও জানলে পরিস্থিতি খারাপ হবে।"
উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী হিংসা, বেআইনি ভাবে অন্যের জমি দখল, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে শনিবার (৬ জুন ২০২৬) দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের দিন তাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আপাতত তিনি শ্রীঘরে। আর এরই মাঝে রবিউলের নতুন কুকীর্তি প্রকাশ্যে।

No comments:
Post a Comment