ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৪ জুন ২০২৬: ফুটপাত থেকে ঘুমন্ত নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও খুন। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর বুকে। দিল্লীর মেহেরৌলি এলাকায় ১০ বছর বয়সী ওই নাবালিকাটি তার পরিবারের সঙ্গে রাতে ফুটপাতে ঘুমিয়ে ছিল, তখন এক মদ্যপ ট্যাক্সি চালক তাকে জোর করে অপহরণ করে। এই ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। এরপরে সে পালানোর চেষ্টা করলে এনকাউন্টারের সময় তার পায়ে গুলি লাগে। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই নাবালিকাটিকে প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে খুন করেছে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি সোমবার রাতের। দিল্লীর মেহেরৌলি এলাকার সিডিআর চকের কাছে ফুটপাতে তার বাবা-মা, দুই বোন এবং এক ভাইয়ের সঙ্গে ১০ বছর বয়সী ওই নাবালিকা ঘুমিয়ে ছিল। পরিবারটি সেখানেই থাকত। সেই সময় বাবলু নামে এক চালক সেখানে আসে। সে মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং একটি যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিল। সে বালিকাটিকে তার পরিবারের সঙ্গে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে। এরপর সে তাকে জোর করে অপহরণ করে নিজের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে।
এই সময় নাবালিকা জেগে ওঠে এবং চিৎকার করতে শুরু করে। চিৎকার শুনে তার বাবা গাড়িটির পিছু ধাওয়া করেন। কিন্তু ততক্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি নাবালিকাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। বাবা সঙ্গে সঙ্গে পিসিআর-এর মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেন।
ফোন পেয়ে মেহরৌলি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। ফুটেজে অভিযুক্তকে নাবালিকাকে অপহরণ করতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তবে, শুধু গাড়িটির ছায়া দেখা যাচ্ছিল এবং গাড়ির নম্বর প্লেটটি অস্পষ্ট ছিল।
পুলিশের পরবর্তী তদন্তে জানা যায় যে, গাড়িটি প্রায় এক ঘন্টা ধরে ওই স্থানে পার্ক করা ছিল। গাড়িটি ভোর ৪টার দিকে মেয়েটি যেখানে ঘুমিয়ে ছিল সেখানে পৌঁছায় এবং ভোর ৫টার দিকে তাকে তুলে নেয়।
এরপর পুলিশ তাদের তদন্ত আরও জোরদার করে। তারা র্যাপিডো, ওলা এবং উবেরের কাছে ওই এলাকা সম্পর্কে তথ্য চায়। তারা ওই পথের এবং আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখে। এর ফলে পুলিশ গাড়িটি শনাক্ত করতে এবং কে এটি চালাচ্ছিল তা নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়।
এরপর পুলিশ গাড়িটির জিপিএস অবস্থান এবং অভিযুক্তের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করে। অভিযুক্তকে বিকাশপুরী এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায় এবং সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ অপহরণের মাত্র চার ঘন্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ যখন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, তখন সে প্রথমে দাবী করে যে সে ওই নাবালিকা সম্পর্কে কিছুই জানে না। তবে, পুলিশ তাকে আরও কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সত্যি কথা বলতে শুরু করে। সে স্বীকার করে নেয় যে, ওই নাবালিকাকে সে খুন করেছেন।
অভিযুক্ত জানায় যে, নাবালিকাকে অপহরণ করার পর সে তাকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ সড়কে নিয়ে যায়। পথে, নাবালিকা যাতে পালাতে না পারে সেজন্য তাকে গাড়ির ভেতরে বেঁধে রাখে। এরপর সে একটি নির্জন জায়গায় গাড়ি থামিয়ে তাকে কাছের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে এবং একটি তোয়ালে দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে। তারপর স মৃতদেহ সেখানেই ফেলে রেখে চলে যায়।
এরপর অভিযুক্ত গুরুগ্রাম থেকে আরেকজন যাত্রীকে তুলে বিকাশপুরীতে নিয়ে যায়। পুলিশ তাকে ঠিক সেখানেই গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় এও জানা যায় যে, বিহারে মারামারি করার জন্য অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পাঁচটি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। তার স্ত্রী ও সন্তানরা বিহারে থাকেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, পুলিশ যখন অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন সে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর পুলিশের সাথে সংঘর্ষে তার পায়ে গুলি লাগে।
এই ঘটনার পর পুলিশ অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সি কোম্পানিগুলোকে নোটিশ জারি করার পরিকল্পনা করছে। পুলিশ জানতে চায়, অপরাধমূলক অতীত থাকা সত্ত্বেও এই চালক কীভাবে ট্যাক্সি চালাচ্ছিল। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

No comments:
Post a Comment