উত্তর দিনাজপুর: তৃণমূলের ভাঙন যেন থামছেই না। এবারে তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন। রবিবার নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। পদ ছাড়ার নেপথ্যে মোশারফ তাঁর মায়ের শারীরিক অসুস্থতার কথাই বলেছেন। কালীঘাটে তাঁর ইস্তফার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক স্বীকার করে নেন, তাঁর সঙ্গে ঋতব্রতপন্থী শিবিরের যোগাযোগ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং তাঁর নেতৃত্বে ভবিষ্যতে রাজ্যের উন্নয়নকাজ করতে চান, তাও প্রকাশ্যে জানান মোশারফ হোসেন। তাঁর বার্তা, 'বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, রাজ্যের উন্নয়নে সামিল হতে চাই।'
এদিন সকালে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিধায়ক মোশারফ হোসেন। সেখানে তিনি দলের এত বড় একটি সাংগঠনিক পদ ছাড়ার কারণ হিসেবে মূলত পারিবারিক সমস্যা এবং ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথাই তুলে ধরেন। সদ্য মক্কা থেকে ফেরা তাঁর বৃদ্ধা মায়ের অসুস্থতাকেই তিনি পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে দাবী করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “রাজ্যের সরকার বদল হওয়ায় আগের মতো আর কাজ করতে পারছি না। তাছাড়া মা অসুস্থ কয়েকদিন আগেই মক্কা থেকে বাড়ি ফিরেছেন মা। এই অবস্থায় কয়েকদিন ধরে বিধানসভায় যেতে পারছি না। আর তাই সংখ্যালঘু সেলের দায়িত্বেও থাকতে চাই না।”
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে। তিনি বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একসময় আমাদের দলের হয়ে এ জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন। সেইসময় থেকেই ওঁর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। তাছাড়া এলাকার উন্নয়ন করা জরুরি। তবে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা হয়েছে।”
একে তো রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার ওপর আবার তৃণমূল সুপ্রিমোর হাতছাড়া হয়েছে পরিষদীয় দল। সাংসদরাও বিমুখ। একে একে মমতার হাত ছাড়ছেন তাঁর আস্থাভাজনরা। উত্তর দিনাজপুরের পাঁচ তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে আগেই চারজন বিদ্রোহী শিবির তথা ঋতব্রতর 'নতুন' তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন। আর এবারে ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেনও সেই শিবিরেই ঝুঁকলেন।

No comments:
Post a Comment