দক্ষিণ ২৪ পরগনা: 'পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি', বলেছিলেন। সেই পুষ্পা'ই এখন নাকানিচুবানি খাচ্ছেন। সম্প্রতি নেপাল সীমান্ত থেকে ফলতার ত্রাস জাহাঙ্গীর খান ওরফে পুষ্পাকে গ্ৰেফতার করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। তাঁকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এবারে সেই পুষ্পাকেই হাফপ্যান্ট ও গেঞ্জি পড়িয়ে রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ। তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করলেন জনগণ।
গ্রেফতার হওয়া জাহাঙ্গীর খানকে বৃহস্পতিবার পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে হাফপ্যান্ট ও গেঞ্জি পরিয়ে ঘটনাস্থল ও সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করতে এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
জাহাঙ্গীরকে দেখতে এলাকায় ভিড় জমায় বহু মানুষ। অভিযুক্তকে ওই অবস্থায় এলাকায় ঘোরানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেন, আবার কেউ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলমান তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং মামলার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। গোটা ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এদিন। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে, এমনটাই আশা তদন্তকারীদের।
সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের এই 'প্যারেড' করানোর প্রবণতা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। যেখানে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, আইন অনুযায়ী একজন অভিযুক্তকে এভাবে কোমরে দড়ি বেঁধে বা অসম্মানজনক অবস্থায় জনসমক্ষে ঘুরিয়ে তাঁর মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশিকাতেও ধৃতদের এভাবে প্রকাশ্যে অমর্যাদা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সেই মামলার শুনানির আগেই ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানকে এইভাবে ঘোরানো নিয়ে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার এসটিএফ ও জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে বাংলা-নেপাল সীমান্ত থেকে গ্ৰেফতার করা হয় জাহাঙ্গীর খানকে। একুশের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস সংক্রান্ত একটি মামলায় জাহাঙ্গীরকে পরেরদিন আদালতে পেশ করে ফলতা থানার পুলিশ। আদালত তাকে পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ভোট পরবর্তী হিংসা-সহ সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে লুটপাট, মারধর, সন্ত্রাস, এমনকি খুনের মামলাও রয়েছে এই 'পুষ্পা' ওরফে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। ফলতার একসময়ে ত্রাস ছিল এই জাহাঙ্গীর। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডান হাত বলেই পরিচিত তিনি। ছাব্বিশের নির্বাচনেও তাঁর বিরুদ্ধে ভয় দেখানো, হুমকি সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে।
ফলতায় ভোটে কারচুপির অভিযোগও উঠেছিল। পরে এখানে পুনঃনির্বাচন ঘোষণা করে কমিশন। আহারে পুনর নির্বাচনের দু'দিন আগেই ভোটের লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গীর। এরপর থেকেই কার্যত বেপাত্তা ছিলেন তিনি। এমনকি তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পরেও তাঁকে দেখা যায়নি। শেষমেশ সোমবার এসটিএফের হাতে ধরা পড়েন জাহাঙ্গীর খান।

No comments:
Post a Comment