বাগদত্তা সিয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মৃত্যুর কোলে, কেতন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস প্রেমিক চেতনের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, June 25, 2026

বাগদত্তা সিয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মৃত্যুর কোলে, কেতন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস প্রেমিক চেতনের

 


ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৫ জুন ২০২৬: সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের লোহাগড় দুর্গে ঘটে গিয়েছে ভয়ঙ্কর এক হত্যাকাণ্ড। বাগদত্তার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন ২৪ বছর বয়সী কেতন আগরওয়াল। আর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিদিন নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এক চাঞ্চল্যকর বিবৃতিতে চেতন প্রকাশ করেছেন যে, সিয়া গোয়েল কেতনের সঙ্গে তার বাগদান ভেঙে তার সাথে পালিয়ে যেতে চাননি, কারণ তিনি ভয় পেয়েছিলেন যে এটি সমাজে তার পরিবারের জন্য "কলঙ্ক" বয়ে আনবে। এই কলঙ্ক এড়াতে, তিনি পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তার বাগদত্তাকে খুনের এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র করেন।


উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১৮ তারিখ, রিয়েল এস্টেট কোম্পানির পরিচালক কেতন লোহাগড় দুর্গ থেকে পিছলে পড়ে মারা যান। প্রাথমিকভাবে, ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, পরবর্তী তদন্তে উঠে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য। জানা যায়, কেতনকে ষড়যন্ত্র করে খুন করা হয়েছে আর এর নেপথ্যে রয়েছে তাঁরই বাগদত্তা। পুলিশ জানিয়েছে যে, কেতন তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের জন্মদিন উদযাপন করতে লোহাগড়ে ট্রেকিং করতে গিয়েছিলেন। নভেম্বরে এই দম্পতির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের জন্য দুই পরিবার রাজস্থানে ১৭ কোটি টাকায় একটি প্রাসাদও বুক করেছিল এবং অতিথিদের আনা-নেওয়ার জন্য দুটি ব্যক্তিগত বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।


সিয়া প্রথমে পুলিশকে জানিয়েছিল যে, ছবি তোলার সময় কেতন পা পিছলে একটি খাদে পড়ে যায়। তিন ঘন্টার অভিযানের পর উদ্ধারকারীরা কেতনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। সিয়ার জবানবন্দির ভিত্তিতে লোনাভালা গ্রামীণ পুলিশ একটি আকস্মিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করেছে। সিয়া পুলিশকে জানায় যে, একটি পাহাড়ের চূড়ার দুর্গ পরিদর্শনের সময় কেতন পা পিছলে পড়ে যায়।


তবে, পুনে গ্রামীণ পুলিশ সুপার সন্দীপ সিং গিল জানিয়েছেন যে, মৃত্যুর পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ এই মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করে। তিনি বলেন, "আমাদের দল আর্থিক বিরোধ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক-সহ বিভিন্ন দিক তদন্ত করেছে। এই সময়ে জানা যায় যে, পুনের কোন্ধওয়ার বাসিন্দা চেতনের সঙ্গে সিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।" পুলিশের মতে, তদন্তে আরও জানা গেছে যে, সিয়া কেতনকে বিয়ে করতে চায়নি এবং তাঁকে তাঁদের সম্পর্কের পথে বাধা হিসেবে বিবেচনা করত। এরপর, তাঁরা দুজনে মিলে কেতনকে খুনের ষড়যন্ত্র করে বলে অভিযোগ।


তদন্তে আরও জানা গেছে যে, ষড়যন্ত্রের একটি অংশ হিসেবে সিয়া ভ্রমণের অজুহাতে কেতনকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যায়। পরে চেতনকেও সেখানে ডাকা হয় এবং তারা দুজনে মিলে কেতনকে খাদে ধাক্কা দেয়, যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়। ৩৩ ডিগ্রি গরমে হুডি পরা এক ব্যক্তিকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখে সন্দেহ জাগে এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চ চেতনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে যে, কেতন তাদের সম্পর্কে বাধা দিচ্ছিল, তাই সে ও সিয়া তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে।


পিটিআই-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশ যখন চেতনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যে সে এবং সিয়া কেন পালিয়ে যায়নি এবং কেন সে কেতনকে খুনের প্রয়োজন হয়? তখন চেতন চৌধুরী জানান, সিয়া পরিবারের লজ্জার ভয় পেয়েছিল। চেতন স্বীকার করে যে, সিয়া বাগদান ভাঙতে বা তার সাথে পালিয়ে যেতে একেবারেই রাজি ছিল না, কারণ এতে তার পরিবারের লজ্জা ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিয়া এবং চেতনকে ২৯শে জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।


এদিকে, অভিযুক্ত চেতনের বাবা ভিন্ন দাবী করেছেন। চেতনের বাবা বাবুলাল চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁর ছেলে নির্দোষ। তিনি অভিযোগ করেছেন, সিয়া নিজেকে রক্ষার জন্য চেতনকে এই মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। বাবুলাল চৌধুরী মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, "আমাদের বলা হয়েছে যে ঘটনাটি যখন ঘটে তখন সিয়া এবং কেতনের থেকে দূরে দাঁড়িয়ে ছিল চেতন। আমার ছেলে এমন নয়।" তিনি বলেন, “আমরা জানি না সেদিন চেতন লোহাগড় দুর্গের ওই জায়গায় কেন ছিল। সে আমাদের বলেনি কেন সেখানে গিয়েছিল। আমার ছেলে এই মামলায় জড়িত নয়। সে নির্দোষ।” তিনি সিয়া ও চেতনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে কোনও কিছু জানার কথাও অস্বীকার করেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad